Sonia Gandhi

মোদীর নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সোনিয়া গান্ধী

জাতীয়

ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যার ঘটনা সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।  আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোদী সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীও। কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, মোদীর নিরবতা এবং ভারতের অবস্থান বিদেশ নীতির দিকনির্দেশনা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার উপর গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করে। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন ৯ মার্চ সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার সময় এই বিষয়ে সরকারের নীরবতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত।  সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ভারতকে সার্বভৌমত্ব ও শান্তির পক্ষে দাঁড়াতে হবে এবং তার নৈতিক শক্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে। ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে, ইরান নিশ্চিত করে যে তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেইর আগের দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের হামলায় হত্যা করা হয়েছে।
মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোনিয়া গান্ধী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও ইজরায়েলি-আমেরিকান হামলায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হুসেইনি খামেনেইর মৃত্যুর বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বিবৃতি দেননি। তিনি এটিকে "কর্তব্যের অবহেলা" হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এই নীরবতা নিরপেক্ষতা নয় বরং দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি। সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করে বলেছেন এই ধরনের নীরবতা ভারতের বিদেশ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন যখন দেশটি কোনও বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেয় না, তখন এটি ভুল বার্তা পৌঁছায়। তিনি দাবি করেছেন সংসদের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হওয়ার সময় এই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি এবং প্রতিরক্ষামূলক মনোভাব ছাড়াই আলোচনা করা উচিত। তিনি দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই সময়ে ভারতের "বিরক্তিকর নীরবতা" নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।
ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর হত্যার অভিযোগ সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
হামলার পর বিশ্বের একাধিক দেশ সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানালেও ভারত সরকার খামেনেই–সংক্রান্ত বিষয়ে আলাদা করে কোনও শোকবার্তা বা নিন্দা জারি করেনি। বিদেশ মন্ত্রক সাধারণভাবে ‘সংযম’ ও ‘সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে দিল্লি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রকাশ করেছিল, তাহলে এবার এই নীরবতা কেন?
তুলনা টানা হচ্ছে অন্য ঘটনাতেও। পাকিস্তান যখন আফগানিস্তানে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তখন ভারত সরকার কড়া নিন্দা জানাতে এক ঘন্টাও সময় ব্যয় করেনি। সেই তুলনায় ইরান প্রসঙ্গে সংযত অবস্থান কি কৌশলগত, নাকি রাজনৈতিক অস্বস্তির ফল, এই বিতর্ক এখন তীব্র। প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে কি এই নীরবতা সঙ্গতিপূর্ণ?
গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ইজরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের বার্তা দেন। এর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান শুরু হয়। একদিন পর মোদী সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং আমিরশাহীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানান। পরে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তবে খামেনেইর মৃত্যু নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। সমালোচকদের মতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। 
সমালোচকদের কথায়, যখন গম্ভীর কূটনীতির বদলে প্রদর্শনীমূলক সফর, ফটো-অপ এবং প্রতীকী আলিঙ্গনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

Comments :0

Login to leave a comment