Left Front's manifesto

উত্তরবঙ্গে ‘টি-থ্রি‘, সুন্দরবন-জঙ্গলমহলেরও নির্দিষ্ট ভাবনা বামফ্রন্টের ইশ্‌তেহারে

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

উত্তরবঙ্গে ‘টি-থ্রি‘ বিকাশের পরিকল্পনা করছে বামফ্রন্ট। রয়েছে জঙ্গলমহলে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্য। সেই সঙ্গে সুন্দরবনে বাঁধ নির্মাণ আর বাস্তুতন্ত্র রক্ষার সামগ্রিক লক্ষ্য বামফ্রন্ট জানিয়েছে ইশ্‌তেহারে।
রাজ্যে ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের সরকারে আসীন রয়েছে তৃণমূল। এর মধ্যে বহুবার জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গ সফর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, হয়নি কাজের কাজ আর বেড়েছে দুর্নীতি। এমন না হওয়ার তালিকায় রয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির সেই শালবনির কারখানা। কলকাতার সৌরভ যার ঘোষণা করেছিলেন স্পেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময়। 
অনুন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকেই গিয়েছে। একদিকে বঞ্চনা। আরেকদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ লুট। যেমন উত্তরবঙ্গের বনভূমি সাফ করে দেওয়ার জন্য যখন বন্যায় ভেসেছে বিস্তীর্ণ অংশ। তখন জঙ্গলমহলেরও বিভিন্ন নদী বানভাসি হয়ে ছাপিয়ে গিয়েছে  দু’কূলের বিভিন্ন গ্রাম। তারও কারণ সেই লুট। 
বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল জমির পাট্টা। এখন পাট্টার জমিও লুট হচ্ছে। বিক্ষোভ হয়েছে ভূমি আধিকারিকদের দপ্তরে।  তেমনি কাজের অভাবে বা ন্যূনতম মজুরির অভাবে চা বাগান বা জঙ্গলমহলের যুবদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে। এই চা বাগান থেকে জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বামপন্থীরা তাঁদের ইস্তেহারে বলছে ‘বিশেষ অঞ্চল উন্নয়ন'-এর কথা। সিপিআই(এম) সহ বিভিন্ন বাম দলগুলি বলছে,  জঙ্গলমহলকে বাঁচাতে 'পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন' করা হবে। একদিকে যেমন খরা মোকাবিলায় ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্প তৈরি করা হবে, তেমনি বিশেষ সরকারি সুবিধাই গড়ে তোলে হবে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। জঙ্গলমহলের বনজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেইসঙ্গে বনভূমি রক্ষার আইন বলবৎ করা হবে কঠোরভাবে পাশাপাশি পতিত জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষের ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি, সুন্দরবন কে কেন্দ্র করে  রয়েছে 'সুন্দরবন প্যাকেজ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নদী ভাঙন রোধে পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তেমনি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে গড়ে তোলা হবে পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। মধু-মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র যেমন স্থাপন করা হবে সেইসঙ্গে বাঘের আক্রমণে আহত ও নিহত সরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত মধু সংগ্রহকারী ও মৎসজীবীদের দেওয়া হবে ক্ষতিপুরণ। 
অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের জন্য 'উত্তরবঙ্গের টি-থ্রি পরিকল্পনা'-র কথাও ইস্তেহারে উল্লেখ করেছে বামপন্থীরা। এর মাধ্যমে, উত্তরবঙ্গে ‘টি-থ্রি‘ মানে ‘টি’ বা চা, ‘ট্যুরিজম’ বা পর্যটন এবং ‘টেকনলজি’ বা প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলা হবে ফল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকেন্দ্র। সেই উদ্যোগ অতীতে বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই হয়েছিল। গড়া হয়েছিল হিমঘর, যাতে অভাবি বিক্রি বন্ধ হয় কৃষকের।
ইশ্‌তেহারে বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোগীদের দেওয়া হবে সুবিধা। 
অঞ্চলগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল এবং সুন্দরবনের জন্য আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হবে। সেইসঙ্গে পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল এবং সুন্দরবনের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বিশেষ প্যাকেজও।

Comments :0

Login to leave a comment