২০১১ সালে প্রবল দ্বিদলীয় এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আবহে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি বামপন্থীরা। ফলে বিধানসভার ভেতরে বামফ্রন্ট শূন্য হয়ে যায়। তারপর থেকে গত পাঁচ বছর ধরে একদিকে রাজ্যের শাসক তৃণমূল অন্যদিকে কেন্দ্রের শাসক আরএসএস-বিজেপি লাগাতার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে যায় সিপিআই(এম) এবং বামফ্রন্ট শরিক দলগুলিকে নিয়ে। কথায় কথায় সিপিআই(এম)-কে অপ্রাসঙ্গিক এবং রাজ্য রাজনীতি থেকে মুছে যাওয়া দল হিসাবে কদর্য ভাষায় অপমান করা হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু পর্যন্ত। কিন্তু তার পর থেকে বিস্ময়করভাবে দুই শাসকের তরফে সিপিআই(এম) শূন্য বলে উপহাস করার প্রবণতা দ্রুত কমতে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন জরুরি ইস্যুতে রাস্তার আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া জাগানোর মধ্য দিয়ে বামফ্রন্ট তথা সিপিআই(এম) যখন নির্বাচনী প্রচারের বৃহত্তর আঙিনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সাড়া বাড়তে থাকে তখন থেকে তৃণমূল-বিজেপি নেতাদের মুখে শূন্য উচ্চারণ বিশেষ শোনা যাচ্ছে না। তারা প্রমাদ গুনতে শুরু করেছে এবার শুধু শূন্য অতিক্রম নয় বড়সড় সংখ্যা নিয়েই সম্ভবত সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্ট বিধানসভায় প্রবেশ করবে। কয়েক মাস আগেই দ্বিবলীয় রাজনীতির দাপটে সিপিআই(এম)-কে হিসাবের মধ্যেই রাখা হতো না। এখন দু’দলের মুখেই বারবার শোনা যাচ্ছে সিপিআই(এম)’র নাম। যত দিন যাচ্ছে ততই তাদের সামনে সিপিআই(এম) গুরুতর ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।
কিছুদিন আগেও বিজেপি নেতারা বাম ভোটারদের কাছে আবেদন করতেন বামফ্রন্টকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট না করে তারা যেন বিজেপি-কে ভোট দেন। একই আবেদন তৃণমূলও করতো বিজেপি-কে হারানোর জন্য। এখন আর তেমন আবেদন শোনা যাচ্ছে না। উলটে তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলছে সিপিআই(এম) নাকি ভোট কেটে দু’দলের প্রার্থীদেরই পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে। অর্থাৎ বাস্তব অভিজ্ঞতায় তারা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে সিপিআই(এম) মোটেই অপ্রাসঙ্গিক নয়, বরং ভয়ানকভাবে প্রাসঙ্গিক। এতদিন বিজেপি বলার চেষ্টা করতো বামপন্থীরা ভোট কেটে তাদের প্রার্থীকে হারিয়ে দিচ্ছে। একই ভাবনা ছিল তৃণমূলেরও। এখন অন্য এক ভাবনা বা ভীতি তাদের গ্রাস করছে। এবার সম্ভবত বহু আসনে দুই দলকেই পেছনে ফেলে (ত্রিমুখী লড়াইয়ে) বামপ্রার্থীরা জিতে যেতে পারে।
ভোটবঙ্গে যেদিকেই চোখ পড়ে শুধু রাশি রাশি টাকা উড়ছে। রাজ্যজুড়ে দু’দলের হোর্ডিংয়ের ছড়াছডি। অন্তহীন পোস্টার-ব্যানার। সংবাদপত্র, টিভি এবং সোশাল মিডিয়ায় মিনিটে মিনিটে প্রচারিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন। বিজেপি-তৃণমূল কত সহস্র কোটি টাকা খরচ করছে তার কোনও সীমা-পরিসীমা নেই। বিপরীতে বামপন্থীরা পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায়। নিবিড় প্রচার, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠছে। পাড়া বৈঠক থেকে শুরু করে মিছিল, মিটিং, জনসভায় যেভাবে জনসমাগম বাড়ছে তাতে আন্দাজ করা যায় এবারের ভোটে অনেক হিসাব নিকেশ বদলে যাবে। বামপন্থার পুনর্জাগরণের পথেই এগচ্ছে বাংলা।
Left in Bengal
বামেরা এবার প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক
×
Comments :0