CITU Iran Conflict

যুদ্ধে ধুঁকছে অর্থনীতি, শ্রমজীবীরা বিপদে, ব্যবস্থা নিক সরকার, দাবি সিআইটিইউ’র

জাতীয়

আমেরিকার সামনে মাথা নুইয়ে দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার ফল গড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেই। আরও কঠিন আঘাতের মুখে পড়ছেন শ্রমজীবীরা।
ইরানের ওপর আমেরিকা-ইজরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের নিন্দা করে একথা বলছে সিআইটিইউ। 
সিআইটিইউ দাবি, পরিস্থিতি বিপর্যয়ের চেহারা নেওয়ার আগেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামতে হবে দেশের সরকারকে। 
সোশাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করেছে সিআইটিইউ। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিদেশনীতি দেশে কী প্রভাব ফেলছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মোদী সরকার গাজা গণহত্যার নিন্দা থেকে দূরে সরে থেকেছে। আমেরিকার অনুচর হতে গিয়ে দূরত্ব বাড়িয়েছে ইরানের মতো দীর্ঘসময়ের বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে।  
সিআইটিইউ কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের মার্চ মাসের নিজস্ব অর্থনৈতিক রিপোর্টের উল্লেখ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে  সঙ্কট কিভাবে অর্থনীতিতে চাপ ফেলছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট, বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর চাপের ফলে অর্থনৈতিক মন্থরতা দেখা গিয়েছে। 
সিআইটিইউ বলেছে, ইরান সংঘাত ভারতে চারটি ধাপে প্রভাব পড়ছে। এক, তেল-গ্যাস ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। দুই, রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে। তিন, আমদানি পণ্যের খরচ বৃদ্ধি। চার, মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ভারতীয়দের পাঠানো টাকার পরিম্যান কমে যাবে। 
সিআইটিইউ বলেছে, মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়বে। তেল ও গ্যাসের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে চড়া থাকে, তাহলে বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। 
সিআইটিইউ বলেছে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে বহু ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হবে। তেল, জ্বালানি, খাদ্যদ্রব্য, অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাতের বর্ধিত মূল্য সামগ্রিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করছে। 
বলা হয়েছে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই সংকোচনের ফলে শ্রমজীবী জনসাধারণের বিশাল অংশ যাদের কোনও সঞ্চয় নেই, তাদের দুর্দশা ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রায় এক কোটি ভারতবাসী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। তাঁরা ভারতে ৪০০ কোটি টাকা পাঠান। ফলে পারিবারিক আয়ে আঘাত আসবে। 
সিআইটিইউ মনে করিয়েছে যে ২০২১’র আগস্টের পর সবচেয়ে নিচে নেমেছে কারখানা উৎপাদন। পরিষেবা ক্ষেত্রেও অধোগতি। সিআইটিইউ বলেছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার অর্থ শ্রমজীবী অংশের রোজগারকে আরও কঠিন সমস্যায় ফেলে দেওয়া।  
সিআইটিইউ বলেছে, ভারত থেকে সরছে লগ্নি। গ্যাসের অমিলের ফলে জীবনজীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতিতে সুরাটের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোর শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন স্বার্থের প্রতি মোদী সরকারের তোষণ নীতি ভারতের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এবং শ্রমজীবী অংশের উপর আঘাত এনেছে। এই সংকট বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই ভারত সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এই দাবিও জানিয়েছে সিআইটিইউ।

Comments :0

Login to leave a comment