TMC

তৃণমূলে বিদ্রোহ ঘিরে তীব্র আক্রমণ কল্যাণ ব্যানার্জির, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে কটাক্ষ

জাতীয় রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করার পর দলের অন্দরের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাদের পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেন তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘দু'মুখো চরিত্রের লোকেরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এতে আমরা খুশি। যারা যেতে চায়, তারা যাক। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জির নাম ব্যবহার করতে পারবে না। মানুষ সত্যিটা জানে এবং আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।’
তবে বিদ্রোহীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, বিজেপিও তাদের সহজে গ্রহণ করবে না। কল্যাণের কথায়, ‘অন্য কোনও দলে মিশে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাও তাদের নেই।’
সূত্রে খবর, বিদ্রোহীদের ফেরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি অভিষেক ব্যানার্জি নাকি বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের দলে ফিরে আসার কথা বলছেন। তিনি তাদের মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে বিদ্রোহী শিবির এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সোমবার বিদ্রোহী সাংসদরা দলীয় নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। মমতা ব্যানার্জি সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কল্যাণকে মনোনীত করলেও বিদ্রোহীরা নিজেদের চিফ হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-কে বেছে নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
এছাড়াও বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছেও চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গে কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবে তৃণমূল। তারপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ভাবা হবে।
বিদ্রোহীদের আক্রমণ করতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। তার অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ বা ভয়ের কারণেই কি বিদ্রোহীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
কল্যাণ বলেন, ‘এই নেতারাই একসময় তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। এখন দল ক্ষমতায় নেই বলেই তারা নানান অভিযোগ তুলছেন। ক্ষমতা ছাড়া এরা থাকতে পারেন না।’
তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের নিজেদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর থেকেই দলের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment