TMC Corruption

১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ , উত্তাল ধূপগুড়ি

জেলা

গরিব মানুষের হকের ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত পরিষেবায় চূড়ান্ত হয়রানি তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগে এবার ফুঁসে উঠলেন সাধারণ মানুষ। ধূপগুড়ি মহকুমার মাগুরমারি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের একের পর এক কেলেঙ্কারি ও প্রতিষ্ঠানিক বেনিয়মের ছবি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং শাসকদলের পঞ্চায়েত স্তরে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বঞ্চিত গ্রামবাসীরা।
১০০ দিনের কাজের মজুরি পাচ্ছেন না প্রকৃত শ্রমিকরা, অথচ জালিয়াতি করে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেই টাকা প্রতিনিয়ত নেতাদের পকেটে ঢুকছে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে মাগুরমারী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এলাকার বাসিন্দা রূপানন্দ রায় নির্দিষ্ট নথিপত্র দেখিয়ে অভিযোগ করেছেন, এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা খাতুন এবং তাঁর পরিবারের পিঙ্কি বেগম ১০০ দিনের কাজ করছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তাঁদের হাড়ভাঙা খাটুনির টাকা ফাতেমা খাতুনের নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না। সেই টাকা প্রযুক্তির কারচুপিতে মজিবুল রহমান নামে সম্পূর্ণ অন্য এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে। অভিযোগকারী রূপানন্দ রায় বলেন, ‘‘মজিবুল রহমান ফাতেমা খাতুনের পরিবারের কেউ নন। অথচ ২০১৮ সাল থেকে লাগাতার তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার রোলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, প্রতি দফায় ২৬৭৪ টাকা করে টাকা তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮,৭১৮ টাকা মজিবুল রহমানের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে এবং তা তুলেও নেওয়া হয়েছে। অথচ যার প্রকৃত পাওনা, সেই ফাতেমা খাতুন কিছুই জানেন না।
প্রকৃত শ্রমিক কাজ করা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য ব্যক্তির নাম ও অ্যাকাউন্ট সরকারি পোর্টালে যুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ দাবি, স্থানীয় প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য এবং তৃণমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও কাটমানির লোভ ছাড়া এই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দা জয়প্রকাশ রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই এই ধরণের বেনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ কাজের ক্ষেত্রে প্রকৃত জব কার্ড হোল্ডারদের বঞ্চিত করে নিজেদের লোকেদের নাম নথিতে ঢুকিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে। এই পুরো দুর্নীতির দায় সম্পূর্ণভাবে পঞ্চায়েত প্রধান এবং তৃণমূলের অঞ্চল নেতাদের নিতে হবে।"
দুর্নীতির পাশাপাশি পঞ্চায়েত স্তরে সাধারণ মানুষের হেনস্থা ও সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক লজ্জাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এই পঞ্চায়েতে। জবকার্ডের ত্রুটি সংশোধন করতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এলাকার বাসিন্দা সবিতা রায় অধিকারী জানান, তাঁর জবকার্ডে সমস্যা থাকায় তিনি তা সংশোধন করতে পঞ্চায়েত অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও দেখা মেলেনি কোনো আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধির। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধান কেউই কার্যালয়ে উপস্থিত নেই। দিনের পর দিন এভাবেই কার্যালয় ফাঁকা রেখে হাওয়া হয়ে যান জন প্রতিনিধিরা।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সবিতা রায় অধিকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমরা জবকার্ড নিয়ে ঘর থেকে বের হতেই পারি না। কোনো সুযোগ-সুবিধাই আমরা পাচ্ছি না। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওরাই রাজত্ব করছে, কিন্তু আমাদের ভোগান্তি কমেনি।"
তৃণমূলের জমানায় সাধারণ মানুষ যে ন্যূনতম পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন, মাগুরমারি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। গরিব মানুষের হকের টাকা নিয়ে এই ধরণের নয়ছয় রুখতে এবং দোষী প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি পঞ্চায়েত ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

Comments :0

Login to leave a comment