SIR Final List

৭ কোটি ৪ লক্ষের চূড়ান্ত তালিকায় রইল ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামও

রাজ্য

শনিবার কলকাতায় সিইও দপ্তরে মনোজ আগরওয়াল, সুব্রত গুপ্ত।

দু’বার সময়সীমা পৌছানোর পর এসআইআর’র ভিত্তিতে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত তালিকায় ৭ কোটি ৪ লক্ষের কিছু বেশি নাম রয়েছে। তবে এর মধ্যে রয়েছে ৬০ লক্ষের বেশি ‘বিবেচনাধীন’ নামও। 
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত ঘোষণা করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
কমিশনের এই তালিকা যদিও অসম্পূর্ণ। কারণ ৬০ লক্ষের বেশি নাম ভোটদাতা হিসেবে থাকলেও তাঁদের ‘বিবেচনাধীন’ করে রাখা হয়েছে। 
কমিশনের তথ্যে বলা হয়েছে এসআইআর শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটদাতার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। গত ১৬ ডিসেম্বর যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয় সেখানে মোট নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। মৃত, স্থানান্তরিত এবং খোঁজ মেলেনি এমন নাম বাদ পড়ে মোট ৫৮ লক্ষ, ২০ হাজার ৮৯৯।  
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে খসড়া তালিকা থেকে ফর্ম-৭’র ভিত্তিতে শুনানির পর বাদ গিয়েছে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ নাম। 
ফলে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ নাম। কিন্তু এই চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে রয়েছে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। 
কমিশন দাবি করেছে পুরষ এবং মহিলার অনুপাত খসড়া তালিকা এবং চূড়ান্ত তালিকায় একই রয়েছে। ফলে মহিলাদের নাম অতিরিক্ত অনুপাতে বাদ পড়েছে এমন নয়। 
সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি বলেন, শুনানির ভিত্তিতে যে নাম বিবেচনার বিষয় বাকি রয়েছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরসন করার চেষ্টা হচ্ছে। 
এরাজ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর কমিশন লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির তত্ত্ব খাড়া করে। বিবাহিত মহিলাদের পদবি বদল, বাংলায় স্বাভাবিক পদবি বদল থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক, একই অভিভাবকের নাম উল্লেখ করেছে এমন সন্তানের সংখ্যাও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটদাতার কাছে যায় শুনানির নোটিশ। পেশ করতে বলা হয় নথি। তার মধ্যে ৬০ লক্ষের বিবেচনার কাজও এখনও সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টকে রাজ্যে নথি বিবেচনার জন্য বিচারপতিদের দায়িত্ব দিতে হয়।  
এদিন মনোজ আগরওয়ালকে প্রশ্ন করা হয় ৬০ লক্ষ ভোটার যে বিবেচনাধীন রয়েছে সেটা যদি সিইও দপ্তরের হাতে থাকতো তাহলে কি এই প্রক্রিয়া আরো সহজ হতো? 
উত্তরে মনোজ আগরওয়াল বলেছেন আমি কোনও উত্তর দেব না। এই বিষয়টি আদালতের কাছে গেছে। আদালত সংবিধান মেনে নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছে। তার ভিত্তিতেই কমিশন ও বিচারপতিরা কাজ করছেন। 
যে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার নাম বাতিল হয়েছে। তারা আবার ফর্ম ৬- এর মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করতে পারে সিইও দপ্তরের কাছে। সেই আবেদনের জন্য ৫০ দিন সময় থাকবে তাঁদের হাতে। 
সিইও’র দাবি, এসআইআর’র মাধ্যমে সব থেকে বড় লাভবান হয়েছেন ভোটাররা। আগে শুধুমাত্র ফর্ম-৭’র মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া যেত এবং ফর্ম-৬’র মাধ্যমে নতুন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতো। কিন্তু এসআইআর হওয়ার ফলে প্রত্যেক বাড়িতে বিএলও-রা গিয়েছেন। তাদের সাহায্য করেছেন আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বিএলএ-রা। তিনি জানান, ২ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি বুথ এজেন্ট বা বিএলএ-রা কাজ করেছেন। এছাড়াও গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৫ লক্ষেরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা এ রাজ্যে কাজ করেছেন। যার মধ্যে ছিলেন বিএলও, বিএলও সুপারভাইজার, এআরও, পর্যবেক্ষক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
আগরওয়াল জানান, ১ লক্ষ ৮২ হাজার নাম ফর্ম-৬’র মাধ্যমে নাম যুক্ত হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment