ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ। সোমবার যুদ্ধের তৃতীয় দিনেও তেহরান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং খামেনেইর দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা আলী লারিজানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে কোন ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান। এক্স-এ লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ট্রাম্প তার মিথ্যা আশা দিয়ে এই অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি তার আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগানকে ইজরায়েল ফার্স্ট-এ পরিণত করেছেন এবং ইজরায়েলের ক্ষমতার লালসার জন্য মার্কিন সেনাদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছেন।’
সোমবার সকালে ইরানের জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চল থেকে শত্রু ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন করে এক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা তেহরানের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের আঁচ এখন কেবল ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সোমবার সকালে তেহরানের পাশাপাশি দোহা, দুবাই এবং জেরুজালেমেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
টানা তৃতীয় দিনের মতো তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে কুয়েত। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি আরএএফ আক্রোতিরিতে একটি রহস্যময় ড্রোন হামলা হয়েছে, যদিও এতে কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউসের একজন অধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারেন, তবে সামরিক অভিযান এখনই থামছে না। তিনি বলেন, "অপারেশন এপিক ফিউরি" পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, খামেনেইর অবর্তমানে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠিত হয়েছে। সেই পরিষদে তিনি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
Iran Israel
মার্কিন আগ্রাসনের কাছে মাথা নোয়াবো না, ফের জানালো ইরান
×
Comments :0