জলপাইগুড়ি জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বড় পরিসংখ্যান সামনে এল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা বর্তমানে ১৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯১৪ জন।
ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮ হাজার আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৯২ জনের নাম বাদ গিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১০৭ জনের নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তীতে চূড়ান্ত সংশোধিত তালিকায় আরও ৩২ হাজার ৭৮৫ জনের নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৯২।
জেলা নির্বাচন দফতরের দাবি, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি এবং একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটারদের চিহ্নিত করেই এই সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখে নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন যাই বলুক বাস্তবে দেখা যাচ্ছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি-র নামে ডাক পাওয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁদের অধিকাংশকে ‘বিবেচনাধীন‘ করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গরালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শুভচোনী বুথের ৪৮৭ জন ভোটার শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। তাঁদের একজন বাদে ৪৮৬ জন সংখ্যালঘু অংশের মানুষ প্রত্যেকেই ‘বিবেচনাধীন’ বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র বলেন, ‘‘দুই সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে এস আই আর নিয়ে। বিজেপি’র নীতিই হলো সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা গরিব মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এসআইআর -এ তার প্রতিফলন ঘটেছে। ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে কারো বাবা প্রধান ছিলেন, তিনি নিজে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন, পরিবার কয়েক দশক ধরে গণআন্দোলনের সাথে যুক্ত। বেছে বেছে এমন নামও বাদ দেওয়া হয়েছে।’’
এদিকে জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আধাসেনা ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারিতে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে আসন্ন নির্বাচনের আবহ।শনিবার গভীর রাতে জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চত্বরে পৌঁছয় এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলা সূত্রে খবর, মোট সাত কোম্পানি বাহিনী আসার কথা থাকলেও প্রথম দফায় একটি কোম্পানি শহরে পৌঁছেছে। রবিবার সকাল হতেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় শুরু হয় রুট মার্চ ও টহলদারি।
Comments :0