কৃষক নেতাদের আশংকাই সত্যি হলো। আলুর বন্ড তোলার সময় আসতেই জলপাইগুড়িতে শুরু কালোবাজারি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিভিন্ন হিমঘরের মালিকরা শুরু করেছেন বন্ডের কালোবাজারি। আলুর বন্ডের কালোবাজারি রোধ, প্রকৃত চাষিদের সমস্ত আলু হিমঘরে সংরক্ষণের নিশ্চয়তা, ভিনরাজ্য ও প্রতিবেশী দেশে আলু পাঠাতে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, দ্রুত ১০০ দিনের কাজ চালু এবং আলু প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার দাবিতে শুক্রবার সদর ৭৩ ব্লকে শিলিগুড়ি–হলদিবাড়ি সড়ক ও ধূপগুড়িতে পথ অবরোধ করেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার কর্মীরা। সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অবরোধের জেরে বহু পণ্যবাহী গাড়ি, পরীক্ষার্থীদের ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গাড়িও আটকে পড়ে। তবে নেতৃবৃন্দ আটকে পড়া বিএসএফের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স ও পরীক্ষার্থীদের গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
আলু চাষিদের অভিযোগ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাবে প্রতিবছর আলুচাষে সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে। বাইরে আলু পাঠাতে পুলিশি বাধা ও হয়রানির অভিযোগও ওঠে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গঙ্গা ও বাহাদুর এলাকায় আলু সংরক্ষণ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়; বাহাদুর হিমঘরে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, হিমঘর কর্তৃপক্ষ চাষিদের সঙ্গে আলোচনা না করে রাজনৈতিক মদতে কালোবাজারিতে যুক্ত হওয়াতেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়েছে।
অবরোধস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ও কৃষক নেতা জিতেন দাস, কৃষক সভার রাজ্য নেতা সলিল আচার্য, সারা ভারত কৃষক সভার জেলা সভাপতি আশিষ সরকার, কৃষক নেতা প্রকাশ রায়, কৃষক নেতা আলুচাষি ক্ষতিরুল ইসলাম জামিনদার আলি, যোগেন সেন সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য, রাজগঞ্জের কৃষক নেতা খরেন রায় ও অশোক রায়, জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র রায় এবং জলপাইগুড়ি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায় সহ অন্যান্য কৃষক নেতৃবৃন্দ।
গোবিন্দ রায় বলেন, আলুর ন্যায্য সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে সরাসরি সরকারি কেনার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কালোবাজারি রুখে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। জামিনর আলি অভিযোগ করেন, সরকারি উদাসীনতা ও পুলিশি হয়রানিতে চাষিরা চরম সঙ্কটে।
বর্ষীয়ান কৃষকসভা নেতা জিতেন দাস ও কৃষক সভার রাজ্য নেতা সলিল আচার্য তাদের বক্তব্যে বলেন উত্তরবঙ্গে সম্ভাব্য ৪৮ লক্ষ টন উৎপাদনের বিপরীতে ৯১ টি হিমঘরের ধারণক্ষমতা মাত্র ১৮ লক্ষ টন। উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১৪ টাকার নিচে নামছে না—বীজ, সার, কীটনাশক ও মজুরি মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ব্যয় ৩০–৩৫ হাজার টাকা। খরা–অতিবৃষ্টি ও সেচের বাড়তি খরচে পরিস্থিতি আরও কঠিন। অথচ চাষিকে ৪–৫ টাকায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। আগাম ক্রয়নীতি না থাকায় বাজার ভেঙে পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সারা ভারত কৃষক সভার জেলা সভাপতি আশিষ সরকার বলেন, চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্টার্চ ও ফ্লেক্স তৈরির শিল্প গড়ে তুললে উদ্বৃত্ত আলুর সদ্ব্যবহার সম্ভব। পাশাপাশি মোরসুমি সবজি সংরক্ষণের জন্য সিএ স্টোরেজ তৈরির দাবিও তোলেন নেতারা। সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের নেতা সমিজ উদ্দিন আহমেদ হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
Comments :0