Maharashtra

মতাদর্শগত কারণ দেখিয়ে একনাথ শিবিরে যোগ দিতে পারেন ছয় বিদ্রোহী শিবসেনা সাংসদ

জাতীয়

বুধবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সাথে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে বলে জল্পনা দিল্লিতে। সূত্রের খবর বিদ্রোহী সাংসদরা মতাদর্শগত কারণ দেখিয়ে শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিদ্রোহীদের অভিযোগ অনুগামীদের নিয়ে কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও উদ্ধব শিবিরের পক্ষ থেকে এই কথাকে কোন মান্যতা দেওয়া হয়নি। বিদ্রোহীদের কথায়, দলের সাংসদের যোগাযোগ রাখেন না উদ্ধব এবং তার ছেলে আদিত্য। 
সূত্রের খবর শনিবার একনাথের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বিদ্রোহী ছয় সাংসদ। তারপর তারা সামনে আনতে পারে অধ্যক্ষকে দেওয়া চিঠি।
দলের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বুধবার অভিযোগ করেন, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদদের দল ছাড়ার জন্য মাথাপিছু ৫০ কোটি টাকার প্রলোভন দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, কয়েকজন সাংসদকে কেনার উদ্দেশ্যে আগাম ১৫ কোটি টাকাও দেওয়া হয়েছে। রাউতের আরও অভিযোগ, সাংসদদের দিল্লিতে নিয়ে যেতে ব্যক্তিগত জেট বিমান পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের নান্দেড় ও পুনে-সহ তিনটি স্থানে এমন বিমান পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত, অনিল দেশাই এবং রাজুভাই ওয়াজে। রাউত জানান, দলের ২ থেকে ৩ জন সাংসদ একনাথ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃহস্পতিবার ডাকা সাংসদ বৈঠকে কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সম্ভাব্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে উদ্ধব শিবির। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং সব সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিধান প্রয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, শিবসেনা (ইউবিটি)-র অন্তত ছয়জন সাংসদ একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল অষ্টিকার, ওমরাজে নিম্বলকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব। যদিও তাদের মধ্যে অন্তত দু’জন সাংসদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তারা এখনও উদ্ধব থ্যাকারের সঙ্গেই রয়েছেন।
রাউত বলেন, ‘এই সাংসদরা উদ্ধব থ্যাকারে এবং বালাসাহেব থ্যাকারের মুখ দেখিয়েই নির্বাচিত হয়েছেন। এখন দল ছাড়লে ভোটাররা তাদের ক্ষমা করবেন না।’ 
সূত্রের খবর, সম্ভাব্য বিদ্রোহী সাংসদরা শীঘ্রই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়নি। রাজনৈতিক মলে জল্পনা, বিদ্রোহী শিবির এখনও দলত্যাগ বিরোধী আইনের বাধা এড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে লোকসভায় শিবসেনা (ইউবিটি)-র মোট ৯ জন সাংসদ রয়েছেন। আইন অনুযায়ী ভাঙনকে বৈধতা দিতে হলে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন।
অন্যদিকে, উদ্ধব ঘনিষ্ঠ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্তও লোকসভার স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছেন। তিনি উদ্ধব থ্যাকারের পক্ষ থেকে একটি চিঠি জমা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। সঞ্জয় রাউত, অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবং অনিল দেশাই বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে একনাথ শিন্ডের পুত্র তথা সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে একনাথ শিন্ডের বৈঠক হয়েছে। 
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার বড় অংশ ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে পৃথক শিবির গঠন করেছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে শিন্ডে গোষ্ঠী শিবসেনার নাম ও প্রতীকও নিজেদের দখলে নেয়। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাই এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে।

Comments :0

Login to leave a comment