Govt Employee Protest

বকেয়া ডিএ-র দাবিতে ১৩ মার্চ ধর্মঘটে নামছেন সরকারি কর্মচারীরা

রাজ্য কলকাতা

বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় অস্থায়ী মঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের। ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল

সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে এবার ১৩ মার্চ ধর্মঘটে নামছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় আন্দোলনে নেমে এই ডাক দিয়েছে যৌথ মঞ্চ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দীর্ঘদিন বকেয়া রেখেছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে মহার্ঘ ভাতা আইনত বলবৎযোগ্য অধিকার। সর্বভারতীয় ভোগ্য পণ্যের মূল্য সূচক মেনে মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে। 
বৃহস্পতিবার ধর্মতলা থেকে মিছিল করে কালীঘাট চলো অভিযানের ডাক দেয়। সেই মিছিল ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড করে। আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ চালাতে থাকেন। তাঁরা দাবি জানান, মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনে অবস্থান মঞ্চে এসে কথা বলতে হবে। সরকার দাবি না মানলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি বাড়ি গিয়ে দুর্নীতির প্রচার করা হবে।  
রাজ্যের কোষাগার থেকে বেতনপ্রাপ্ত কর্মীরা বলছেন, এ রাজ্যে সরকার নিজেদের খেয়ালখুশি মতো মহার্ঘ ভাতা দিচ্ছে। যা বেআইনি। 


যৌথ মঞ্চ দীর্ঘ আইনি আন্দোলন পার করে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না, বলেছে সরকারি কর্মচারীরা।
পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে গঠিত পঞ্চন বেতন কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল প্রতিটি আর্থিক বছরে দু’বার কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার জন্য। 
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, তৃণমূল সরকারের সময়ে গঠিত ষষ্ঠ বেতন কমিশন মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে ঠিক উল্টো কথা বলছে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অভিমত, মহার্ঘ ভাতা দেওয়া বা না দেওয়া তা সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের ইচ্ছার অধীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট যে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশই সঠিক। ফলে রাজ্য সরকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে কর্মচারীদের।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে যে ডিএ আইনি বলবৎযোগ্য অধিকার। সরকারকে তা মানতে হবে। এমন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 
শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ মার্চের ৬ তারিখের মধ্যে বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। 
বেঞ্চ বলেছে, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের আইনি প্রয়োগযোগ্য অধিকার। আদালতের আগের রায় অনুযায়ী তাঁদের ২০০৮-২০১৯ পর্বের বকেয়া মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। 
শীর্ষ আদালত ডিএ বা মহার্ঘ ভাতাকে জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের সুরক্ষামূলক হাতিয়ার। দাম বৃদ্ধির থেকে কর্মচারীদের রক্ষা করার একটি ব্যবস্থা মহার্ঘ ভাতা। 
বেঞ্চ বলেছে, ডিএ কোনও অতিরিক্ত সুবিধা নয়। ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখার একটি উপায়। 
রাজ্য সরকার এবারও আদালতে আর্থিক সঙ্কটের অজুহাত খাড়া করেছে। বেঞ্চ আর্থিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়ার কথা বলে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ত্রিলোক সিং চৌহান ও গৌতম ভাদুরি এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা এই প্রতিষ্ঠানের কোনও বরিষ্ঠ আধিকারিককে নিয়ে। 
কখন বকেয়া অর্থের বাকি টাকা কী কী অঙ্কে কোন সূচি অনুযায়ী মেটাবে তা নিয়ে আলোচনা চালাবে এই কমিটি। তবে প্রথম কিস্তির টাকা মেটাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। 
নির্দেশ পালন কতটা হলো তা জানিয়ে রাজ্যকে দিতে হবে হলফনামাও। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে হবে সেই হলফনামা।

Comments :0

Login to leave a comment