Suvendu Adhikari

মমতাকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ শুভেন্দুর, চন্দ্রনাথ খুনে ‘সুপারি’র ২ কোটি টাকা কোথা থেকে, উঠছে প্রশ্ন

রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে নিজের প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রসঙ্গ তুলে ‘সুপারি’র ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল, সেই প্রশ্নও তুললেন তিনি। তার বক্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তবে খুনের পিছনে কারা রয়েছে এবং অর্থের উৎস কী, তা তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।
বুধবার বিধানসভায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ী বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর এই মন্তব্য করেন শুভেন্দু। হাসিরানি রথ নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা।
ভবানীপুর আসন ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে মমতা ব্যানার্জির ফের উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ তৈরি হতো। সেই সুযোগ তিনি দিতে চাননি। তার কথায়, ‘ভবানীপুরে যাকে দু’বার হারিয়েছি, তাকে ফের নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দিতে চাইনি। ওর বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। আর নির্বাচনে না নেমে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে ঋতব্রত শিবিরের নথি চুরি করার অভিযোগ নিয়েও বলতে শোনা যায়। ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় হরিয়ানা থেকে সড়ক পথে তাদের নথি চুরি করতে গিয়েছিল মমতা তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা চাইলে সিবিআই তদন্তের অনুমতি দিতে পারে সরকার।
নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানকার মানুষের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তবে নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন শুভেন্দুর প্রাক্তন আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। চন্দ্রনাথকে খুনের কারণ হিসেবে শুভেন্দু তার সঙ্গে চন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করেন।
শুভেন্দুর দাবি, চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় শ্যুটার ও সুপারি কিলার-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। কিন্তু খুনের বরাত দেওয়ার জন্য কথিত ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল, তা এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তার।
শুভেন্দু বলেন, ‘২ কোটি টাকার সুপারি কোথা থেকে এসেছিল, সেটাই প্রতিষ্ঠা করা বাকি। ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট, না কি ডায়মন্ড হারবার টাকাটা কোথা থেকে এসেছিল, তা জানা গেলেই তদন্ত সম্পূর্ণ হবে।’
ক্যামাক স্ট্রিট তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। কালীঘাটে থাকেন মমতা ব্যানার্জি। অন্য দিকে, ডায়মন্ড হারবার অভিষেক ব্যানার্জির লোকসভা কেন্দ্র। ফলে শুভেন্দুর বক্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যদিও অর্থের উৎস বা খুনের বরাতদাতাদের পরিচয় সম্পর্কে শুভেন্দুর অভিযোগ এখনও তদন্তে প্রমাণিত নয়।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে জয়কে রাজ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল নতুন সরকারের প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা এমনটাই দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই বিরোধীরা কার্যত ময়দান ছেড়ে দিয়েছিল। রেজিনগরে বিরোধী প্রার্থী জামানতও রক্ষা করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ রেজিনগরের ফল। মুসলিম-অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির জয়কে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ খারিজ করতে তিনি অন্নপূর্ণা প্রকল্পের প্রসঙ্গও তোলেন।
তার দাবি, রেজিনগরে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন ৭০ হাজার মহিলা, যাদের মধ্যে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। রেজিনগরের ৩০০টি বুথের মধ্যে ২০০টি সংখ্যালঘু-প্রধান এলাকায় হলেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, নির্বাচনে মানুষের পছন্দ নির্ধারণ করছে উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, ধর্মীয় পরিচয় নয়। তিনি বলেন, বিজেপি হিন্দু ও সনাতনী পরিচয়ে বিশ্বাসী হলেও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম ছ’মাসের কাজকে উন্নয়নের সূচনা মাত্র বলে বর্ণনা করেন শুভেন্দু। তার কথায়, ‘এই ছ’মাসে যা দেখেছেন, তা শুধু চা-বিস্কুট। প্রাতরাশ ও দুপুরের খাবার এখনও বাকি। উন্নয়ন কী ভাবে হয়, দেখতে থাকুন।’
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জমি আরও বিস্তৃত হওয়ার দাবি করছে। তবে চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে অর্থের উৎস ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে।

Comments :0

Login to leave a comment