Howrah Promoter Shot Dead

হাওড়ায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় বিক্ষোভের মুখে শাসক বিধায়ক

রাজ্য জেলা

প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক প্রমোটারকে খুন হাওড়ার পিলখানায়। প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়। হাওড়া শহরের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় পিলখানার মোড়ে বিক্ষোভ দেখান সিপিআই(এম) কর্মীরা। বিক্ষোভ মিছলে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বুধবার ভোররাত প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক প্রমোটারকে খুন করা হয় হাওড়ার পিলখানায়। মৃতের নাম মহম্মদ সফিকুল। অভিযুক্ত দুই দুস্কৃতী হারুণ খান ও রশিদ খান তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। বুধবার সকালে মৃত সফিকুলের বাড়ি বিধায়ক গৌতম চৌধুরী এলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে কার্যত পালিয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি। সারাদিন আর দেখা যায়নি বিধায়ক ও তৃণমূল নেতাদের।
প্রমোটারকে খুনের ঘটনায় এদিন স্তব্ধ হয়ে যায় পিলখানা চত্বর। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন পুরুষ ও মহিলারা। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও পুলিশের বিরুদ্ধে। মৃতের দেহ নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা জিটিরোডে পিলখানা মোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সারাদিন পুলিশকে কার্যত দর্শকের ভূমিকায় দেখা যায়। বুধবার সন্ধ্যায় হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। 
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে এদিন ভোর চারটে নাগাদ পিলখানা দ্বিতীয় বাই লেনে নিজে বাড়ির নীচে চায়ের দোকানে আসেন প্রমোটার মহম্মদ সফিকুল। এলাকার সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় সেই চিত্র। সফিকুল চায়ের দোকানে আসলে তার সাথে কথা বলতে দেখা যায় অভিযুক্ত হারুণ ও রশিদকে। কথা বলার সময়ে পিছন থেকে সফিকুলের মাথায় গুলি করে রশিদ। রাস্তায় পড়ে গেলে রশিদ ও হারুণ পরপর ছয় রাউন্ড গুলি চালায় সফিকুলের মাথায় ও বুকে। গুলি চালিয়ে এলাকা ছাড়ে দুই দুস্কৃতীরা। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি গণশক্তি ডিজিটাল। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই স্থানীয়রা সফিকুলকে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা দুই দুস্কৃতীর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ পৌঁছালে পুলিশকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। এলাকা শান্ত করতে নামানো হয় র্যা ফ। মৃতের বাড়ির সামনে বসানো হয় পুলিশ পিকের্টিং। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে পুরাতন শত্রুতার জেরেই এই খুন। মঙ্গলবার রাতে গোলাবাড়ি থানায় হারুণ খানকে ডেকে পাঠানো হয়। কি আলোচনা হয়েছে তা জানা যায় নি। পরের দিন ভোররাতে একজন প্রমোটারকে প্রকাশ্যে খুন করে কিভাবে পালালো হারুণ তা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। 
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে সফিকুল প্রমোটিং এর কাজ করতেন। প্রমোটিং করার জন্য মোটা টাকা দাবি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হারুণ খান।  স্থানীয় থানায় জানিয়ে কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান মৃতার পরিবারের লোকজন। দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় সফিকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান অভিযুক্ত হারুণ খান তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সক্রিয় কর্মী। স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর একান্ত ঘনিষ্ঠ। বিভিন্ন সময়ে গৌতম চৌধুরীর সাথে তাকে দেখা গেছে। পিলখানায় বিধায়ক এলেই হারুণ খানকে সাথে নিয়ে এলাকায় ঘুরতেন। বাসিন্দারা জানান বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হবার জন্যই এলাকায় বেআইনি কার্যকলাপ চালাতো হারুণ। বেআইনি বহুতল থেকে টাকা তোলা থেকে শুরু করে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত ছিল হারুণ। বারেবারে পুলিশকে জানিয়ে কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের আরও অভিযোগ স্থানীয় গোলাবাড়ি থানার পুলিশের একাংশের সাথে দহরম মহরম থাকায় হারুণ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে তার কোন সুরাহা হতো না। উপরন্তু পুলিশের কাছ থেকে জেনে অভিযোগকারীকে হেনস্থা করতো হারুণ। শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হবার কারণেই এইসব ঘটনা ঘটতো বলে জানান বাসিন্দারা। বুধবার সকালে মৃত সফিকুলের বাড়ি বিধায়ক গৌতম চৌধুরী এলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিধায়ক ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। স্থানীয় মহিলারা বিধায়ককে জানান তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে কার্যত পালিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি। সারাদিন আর দেখা যায়নি বিধায়ক ও তৃণমূল নেতাদের। বুধবার বেলায় হাওড়া শহরের আইনশৃঙ্খলার ক্রমশ অবনতি ও খুনের ঘটনার প্রতি বাদ জানিয়ে পিলখানার মোড়ে বিক্ষোভ দেখান সিপিআই(এম) কর্মীরা। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত হারুণ খান ও রহিত খানের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দার। ইতিমধ্যে কলকাতা ও হুগলি জেলার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে দুই অভিযুক্তর সন্ধান চালাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকেরা।

Comments :0

Login to leave a comment