জখমদের পরিজনদের সাথে কথা বলছেন সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ।

হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে বিধ্বংসী আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই, কর্তৃপক্ষেরই গাফিলতি দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের

রাজ্য জেলা

Haldia Petrochemicals

রামশঙ্কর চক্রবর্ত্তী: হলদিয়া
‘‘আগে জাহাজ খালি তারপর এসব হবে’’ রাত্রি সাড়ে বারোটায় এসে বলেছিল হলদিয়া পেট্রোক্যামিকেলস এর নিরাপত্তা রক্ষীরা। কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই যে এমন ঘটনা ঘটেছে স্পষ্টই জানাচ্ছেন হলদিয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির বাসিন্দারা। এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলছেন ‘‘সময় মতো যদি ব্যবস্থা নিত তাহলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। এই আগুন লেগেছে কেবলমাত্র কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই।’’ বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেল সোমবার বিকাল থেকেই ন্যাপথার গন্ধে চারিদিক ভরে উঠে। এমন বিকট দুর্গন্ধ পেয়ে বাসিন্দারা হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নিরাপত্তারক্ষীদের জানায়। তারা বলে এটা আমাদের লাইন নয়। বাসিন্দারা তখন হলদিয়া থানাতে এমন ঘটনা জানানোর পর হলদিয়া থানা কর্তৃপক্ষ বলে এটা আমাদের আওতাধীন এলাকা নয় ভবানীপুর থানার এলাকা। তখন ভবানীপুর থানাকে বিষয়টি জানালে তারা খতিয়ে দেখার কথা বলে। রাত্রি সাড়ে বারোটা নাগাদ এইচপিএল কোম্পানির সেফটি সিকিউরিটিরা ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা জানায় ‘‘এখন কিছু করা যাবে না কারণ জাহাজ খালি হচ্ছে।’’ বুধবার দুর্ঘটনাস্থলে সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ জখমদের পরিজনদের সাথে কথা বলেন। নেতৃবৃন্দের কাছেই কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্তর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলেন, এতগুলো মানুষের জীবন আগে ছিল নাকি জাহাজ খালির অজুহাত দিয়ে সময় মত ব্যবস্থা না নেওয়া? কারখানা কর্তৃপক্ষের ন্যাপথা চুরির বিবৃতি প্রসঙ্গে বাসিন্দারা বলেন ‘‘কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। আমরা এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আছি। পাশ দিয়ে এমন বিপজ্জনক পাইপলাইন যাওয়ায় আমরা নিয়মমাফিক জীবন যাপন করি। আমরা জানি যে এমন পাইপলাইন দিয়ে যা প্রবাহিত হচ্ছে  তা অত্যন্ত বিপজ্জনক‌। একটু অসতর্ক হলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আমাদের নিজেদের জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারি? কারখানা কর্তৃপক্ষ সময় মতো ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। এতগুলো মানুষের বাঁচা নিয়ে সংশয় এখন।’’
এদিকে মঙ্গলবার ভোরের বিধ্বংসী আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই। মানু বিবির আগেই মৃত্যু হয়েছিল। এদিন খবর পাওয়া পর্যন্ত মইদুল ইসলাম নামের বছর তিরিশের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ২৫ ঘন্টা পরে অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এলো হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের আগুন। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন কমপক্ষে ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মানু বিবি( ৩৮) এবং মইদুল ইসলাম (৩০) এর। তবে সূত্রের খবর যখনদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনই স্বাভাবিক হচ্ছেনা হলদিয়া পাঁশকুড়া রেল চলাচল। রেললাইন ও ওভারহেড তারের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তা মেরামত করার কাজ চলছে। কি কারণে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো তা জেলা প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment