Balarampur College

শিক্ষা কর্মীকে জাত তুলে অপমানের অভিযোগ বলরামপুর কলেজের অধ্যক্ষার বিরুদ্ধে

জেলা

তপশিলি জাতিভুক্ত হওয়া এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে জাত তুলে অপমান করা এবং নানা রকম হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উঠলো পুরুলিয়ার বলরামপুর কলেজের  অধ্যক্ষার বিরুদ্ধে। বলরামপুর কলেজের একমাত্র স্থায়ী অশিক্ষক কর্মচারীর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। ওই কর্মচারী ইতিমধ্যে জাতীয় এস সি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে সবকিছু জানিয়েছেন ।কলেজের স্থায়ী  অধ্যাপিকারাও সরব হয়েছেন অধ্যক্ষের নানা আচরণের বিরুদ্ধে। যদিও দূরভাষে অধ্যক্ষা জানালেন সবকিছু অভিযোগই মিথ্যা। 
বলরামপুর কলেজের পদার্থবিদ্যা ল্যাবরেটরির ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট বিশ্বনাথ রুহিদাস। ২০০০ সালে তিনি চাকরিতে জয়েন করেছিলেন। আগামী ১৫ই মার্চ ২০২৭ তিনি চাকরিজীবন থেকে অবসর নেবেন। কলেজের অধ্যক্ষ্যার বিরুদ্ধে তার একাধিক অভিযোগ। এর আগে  জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কলেজের টিচার্স কাউন্সিল, শিক্ষা দপ্তরকে সমস্ত কিছু জানিয়েছেন। তার অভিযোগ তিনি মুচি সম্প্রদায় বলে তাকে বিভিন্ন সময়ে হেনস্থা করা হয়েছে। বিশ্বনাথ বাবুর অভিযোগ নিচু জাত বলে অধ্যক্ষা তার চেম্বারে ঢুকতেও দিতেন না । কিছু বলতে গেলে অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।  বলরামপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি জাতীয় এস সি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে সমস্ত কিছু জানিয়েছিলেন তেইশে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে। ওই অধ্যক্ষা তার বাড়িতেও  গেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অপমানের  কারনে তিনি আত্মহননের  কথাও একবার ভেবেও ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
কলেজের স্থায়ী অধ্যাপিকারাও অধ্যক্ষার আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ভূগোল বিষয়ের অধ্যাপিকা কৃষ্ণা মল্লিকের বক্তব্য বিশ্বনাথ রুহিদাসের সঙ্গে গত ২৫/১/২৫ এবং ৫/১২/২৫ এ দুটি ঘটনা ঘটেছিল। গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে তাকে চিঠিতে সমস্ত কিছু জানিয়েছিলেন বিশ্বনাথ রুহিদাস। তিনি টিচার্স কাউন্সিলের কে অনুরোধ করেছিলেন যাতে অভিযোগের সত্যতা বিচার করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন জিবি মিটিং এ আলোচনার বিষয় কি হবে সেটা কখনোই তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে করা হতো না। যে সময়ের ঘটনা সেই সময় জিবির সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। অধ্যক্ষার অত্যাচারের শিকার যে তিনিও হয়েছেন সেটা মেনে নিয়েছেন। এবং সে ব্যাপারে সমস্ত স্তরের সবাইকে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাংলা বিপাকের অধ্যাপিকা দিলরুবা খাতুন এর বক্তব্য তারা তাদের প্রাপ্য জিনিস চাইতে গেল তাদেরকে দেওয়া হতো না।  
এই কলেজেরই পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা শান্তিরাম মাহাতো।অভিযোগ তিনি সব কিছু জানা সত্ত্বেও কোন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ  সেই অধ্যক্ষা অনন্যা ঘোষ কে কলেজে গিয়ে পাওয়া যায়নি,। দূরভাষে তিনি জানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে এটা চক্রান্ত, সবটাই বানানো গল্প। তাকে এবং কলেজকে হেয় করার চেষ্টা। ৩৩ বছর ধরে তিনি বলরামপুর কলেজে রয়েছেন। কোনদিন কাউকেই জাত তুলে কথা বলেননি। বিশ্বনাথ বাবুর অবসরকালীন কাগজপত্র তিনি তৈরি করেন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment