রবিবার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ যুক্ত হয়েছেন ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ের সাথে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়ে দিয়েছে তারা এনডিএ শরিক হিসাবে কাজ করবেন। কিন্তু এই এনসিপিআই কি জানত যে তাদের দলে একসাথে ২০ জন সাংসদ যোগদান করতে চলেছে? না।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দলের সাধারণ সম্পাদক তিতাস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন তাদের অন্ধকারে রেখেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ ব্যানার্জি সহ ২০ জন সাংসদের তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। তিনি বলেন, ‘সাংসদের দলে যুক্ত হওয়ার বিষয় কিছু জানতাম না। ফেসবুক থেকে জেনেছি বিষয়টা।’ উল্লেখ্য ত্রিপুরার এই দল এনডিএ’র শরিক। পশ্চিমবঙ্গের ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা মেদিনীপুর, হাওড়ার কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন।
দলের আরও এক সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে বলেন, ‘গত চার পাঁচদিন ধরে তৃণমূল সাংসদদের দলে যুক্ত হওয়ার একটা জল্পনা শুনছিলাম। দলের সভাপতি উত্তিও কুন্ডুর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম তাদের দলে না নিতে। দলকে অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না।’
ত্রিপুরার একটি দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যেতে চাইছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। রবিবার লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার পর এই পরিকল্পনা জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধদের অন্যতম কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিজেপি’র পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত।
অধ্যক্ষের বাসভবন থেকে বেরিয়ে ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘‘আমরা বলেছি তৃণমূলের থেকে আলাদা বসার ব্যবস্থা করার জন্য। আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া সঙ্গে মিশে যাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে।’’ তিনি জানিয়েছেন বিজেপি’র জোট এনডিএ-কে সমর্থন করবেন তাঁরা।
যে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল ভাঙানোর খেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিয়েছিলেন তাঁর পনের বছরের মেয়াদে, তাঁর দলকেই সংসদে এবং বিধানসভায় ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল।
অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার আগে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ ব্যানার্জি, মালা রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠানের মতো বিক্ষুব্ধরা।
রাজনৈতিক মহলের মত, বিজেপি’র পরামর্শেই সংসদে নতুন গোষ্ঠীর স্বীকৃতির বদলে অন্য দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একাংশের বক্তব্য, রাজ্য বিজেপি’র কোনও কোনও নেতা সরাসরি বিক্ষুব্ধদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মত জানিয়েছিলেন।
দল বদলের যেই ইচ্ছা কাকলিরা জানিয়েছেন সেই ক্ষেত্রে সংবিধানে দশম তফসিল কীভাবে বিবেচিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মত, একটি দল অন্য দলের সঙ্গে মিশে যাওয়া বা ‘মার্জার’-র ক্ষেত্রে দশম তফসিলির একটি শর্ত হলো আইনসভায় কোন দলের দুই তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিকে ভিন্ন দলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের শাস্তি এড়ানোর জন্য। কিন্তু এটি একমাত্র শর্ত নয়। অপর শর্তটি হলো, কেবল পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্ত হলেই হবে না, মূল রাজনৈতিক দলকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে অন্য দলে মিশে যাওয়ার।
এদিকে, হাওড়ায় এনসিপিআই’র দপ্তরে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন হতে দেখা গিয়েছে সোমবার।
Comments :0