স্মরণ-অনুষ্ঠানে বাধার চেষ্টার বিজেপি’র
শনিবার জামুড়িয়ার পরিহারপুরে প্রয়াত সিপিআই(এম) নেতা কমরেড বিকাশ চৌধুরির স্মরণে অনুষ্ঠিত রক্তদান শিবির ও সভায় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জির ভাষণ দেওয়ার সময় স্থানীয় বিজেপি নেতা ও কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সভার কর্মসূচি বানচাল করতে পারেনি, সভায় সমবেত মানুষজনের প্রতিবাদে বিজেপি নেতারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মীনাক্ষী মুখার্জি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সভা করার গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দেখাক রাজ্যে আইনের শাসন চলছে কিনা।
এদিন সিপিআই(এম)’র অজয় পূর্ব এবং অজয় পশ্চিম এরিয়া কমিটির উদ্যোগে কমরেড বিকাশ চৌধুরির ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আসানসোল পৌর কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ নম্বর বাকশিমুলিয়া পরিহারপুরে একটি কর্মসূচি পালিত হয়। কমরেড বিকাশ চৌধুরি স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহযোগিতায় কমরেড বিকাশ চৌধুরি স্মৃতি ভবন সংলগ্ন প্রান্তরে রক্তপতাকা উত্তোলন ও প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রক্তদান শিবির ও প্রয়াত নেতার স্মরণে সভা হয়েছে। রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন মীনাক্ষী মুখার্জি। শিবিরে ২৯ জন রক্তদান করেন, আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার রক্ত সংগ্রহ করে। সভায় মীনাক্ষী মুখার্জি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মনোজ দত্ত ও আবদুল কাইয়ুম। সভাপতিত্ব করেন তাপস কবি।
সভায় মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ওরা বলছে ডবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে। আসলে একটা ইঞ্জিন কর্পোরেট স্বার্থরক্ষার আরেকটা ইঞ্জিন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য কাজ করছে। দেশের সম্পদ কর্পোরেট পুঁজির পদতলে সঁপে দিচ্ছে। সংবিধানের শপথ নিয়ে ওরা হিন্দু মুসলিম ভাগাভাগি করছে। এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই লক্ষ মানুষের রুজিরুটি কেড়ে নিয়েছে হকার উচ্ছেদের নামে। আইনসভায় বসে গুন্ডাদের ভাষায় চোখ পাকিয়ে কথা বলছে। কিন্তু পুলিশ গুন্ডা দিয়ে যে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না সেটা মোদী অমিত শাহরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। অন্যায় জোর জুলুমের বিরুদ্ধে মানুষ পথে নেমেছেন। কারো ক্ষমতা নেই প্রতিবাদ প্রতিরোধ দমন করে। কারণ সারা দেশ বিজেপি’র অপশাসনে ক্ষোভে তেতে উঠেছে। যারা এই রাজ্যে নির্বাচনের সময়ে অনেক নীতিকথা শুনিয়েছিল, সরকারে বসেই তারা তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়কদের কোলে তুলে নিয়েছে। মানুষ এখন দেখতে পাচ্ছেন, সব মিলেমিশে একাকার। আমরা আগেই বলেছিলাম, দুটো দোকান আলাদা হলেও ওদের গুদামঘর এক।
বিজেপি’র বিরুদ্ধে মানুষের এই ক্ষোভের কথা বলার সময়েই গেরুয়া বসন পরিহিত বিজেপি’র মণ্ডল সম্পাদক রাজু গাঙ্গুলি ও যুবমোর্চা সভাপতি বিশাল গাঙ্গুলি কিছু সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সভাস্থলে চড়াও হয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘এখানে সভা করা যাবে না, আমাদের সরকার চলছে।’ কিন্তু সভায় উপস্থিত মানুষ সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলে বিজেপি কর্মীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেছেন,পরিহারপুরের মানুষ প্রতি বছর শ্রমিক নেতা প্রয়াত সাংসদ, বিধায়ক কমরেড বিকাশ চৌধুরিকে স্মরণ করে আসছে। তৃণমূলের যারা গুন্ডামি করতো তারা এখন বিজেপি’তে যুক্ত হয়ে গেছে। গেরুয়া বাহিনী আদতে যুক্তিবিরোধী, গণতন্ত্র বিরোধী। কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় মানুষের জোট গড়ে উঠছে। মানুষই ওদের রুখে দেবে।
এদিন রানিগঞ্জেও কমরেড বিকাশ চৌধুরিকে স্মরণ করা হয়। গির্জাপাড়ায় শহীদ স্মৃতি ভবনে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, সুপ্রিয় রায়। পার্টির রানিগঞ্জ এরিয়া কমিটির ডাকেও কর্মসূচি হয়েছে। রানিগঞ্জে পার্টির সব শাখা দপ্তরে কমরেড বিকাশ চৌধুরির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
Comments :0