Ranaghat SIR

প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ, প্রতিবাদে পথ অবরোধ , বিক্ষোভ রানাঘাটে

জেলা

রানাঘাট অঞ্চলের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করল সিপিআই(এম)। খেটে খাওয়া গরিব প্রান্তিক মানুষ এবং সাধারণ মানুষের আশঙ্কাকে সত্যি করে ভুলে ভরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিশেষ অংশের মানুষের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে শনিবার। অমীমাংসিত করে রাখা হয়েছে বহু ভোটারের না। অনেক উদাহরণ দেখা যাচ্ছে যেখানে ২০০২ সালে নাম থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে প্রকাশিত ভোটার লিস্টে নাম নেই, আবার বেশ কয়েক পুরুষ ধরে বসবাসকারী এলাকার স্থানীয় মানুষের নাম নেই, কোথাও বা ছেলের নাম আছে বাবার নাম নেই। বিচারাধীন তকমা দেয়া সারা রাজ্যের সাথে নদীয়া জেলার এবং রানাঘাট অঞ্চলের বহু ভোটার এখন আশঙ্কায় দিন গুনছেন। বিজেপি তৃণমূলের কথা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোমবার রানাঘাট এরিয়া কমিটির ডাকে রামনগর ছোট বাজার মোড় থেকে সুভাষপল্লী বাজার পর্যন্ত এক বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলের শেষে বেশ কিছুক্ষণ প্রতীকী পথ অবরোধ করা হয়। অবরোধে সামিল হন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরাও। অবরোধ চলাকালীন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তার গাড়ি এলেও অবোধকারীরা পিছু হটেননি। অবরোধকারীদের নাছোড় রণংদেহী মেজাজ দেখে বিশেষত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে ওই অফিসারের কনভয় বাধ্য হয় অন্য পথে ঘুরিয়ে নিতে। মিছিলের সভায় বক্তব্যে এরিয়া নেতৃত্ব সুভাষ রায় দাবি করেন, ২০০২ সালে যাদের ম্যাপিং হয়ে গেছে তাদের নাম বাদ দেয়া বা বিচারাধীন এই তকমা দেওয়া যাবে না। অবিলম্বে তাদের নাম তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘রামনগর সুভাষপল্লী অঞ্চল স্বাধীনতার সময় থেকেই মূলত উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এবং প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা দীর্ঘ কয়েক পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করছেন। অথচ বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলে আসছেন ‘রোহিঙ্গা‘, ‘ঘুষপেটিয়া‘, ‘অনুপ্রবেশকারী‘ এই রাজ্যে ভরে গেছে। আসলে বিজেপির ইতিহাস আরএসএসের ইতিহাস বরাবরই দেশ এবং দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে এই বিজেপি আসলে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারা বিজেপিকে চায় না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। ভোটের অধিকারকে সাধারণ মানুষের থেকে কেড়ে নেয়ার জন্য এরা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। আর তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এখনই বিজেপির তাঁবেদারি বন্ধ না করে তাহলে আগামী দিনে বিডিও অফিসগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’’ 
সিপিআই(এম) জেলা নেতৃত্ব দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষদের সমস্ত রকমের আইনি সহায়তা সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। এবং সর্বতোভাবে মানুষের সঙ্গে থাকা হবে। এই বিষয়ে মানুষকে এখনই সচেতন এবং সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জেলা কমিটির সদস্য এবং রানাঘাট এরিয়া সম্পাদক কমল ঘোষ নির্বাচন কমিশন- বিজেপি এবং তৃণমূলের অশুভ আঁতাতের বিরুদ্ধে মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই জেলার প্রাক্তন সভাধিপতি এবং বর্তমান সিপিআই(এম)’র জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখের নাম পরিকল্পিতভাবে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এইভাবে নাম বাদ দিয়ে সিপিআই(এম)’র আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কমিশন যদি এখনই নিজেদের শুধরে না নেয়, এবং যে সমস্ত আধিকারিকরা এখন বিজেপি এবং তৃণমূলের তাবেদারি করছেন তারা যদি সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ না করেন তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে আগামী দিনে। 

এই কর্মসূচিতে  ছিলেন সিপিআইএম নদীয়া জেলা নেতৃত্ব অয়ন মিত্র, প্রদীপ শর্মা চৌধুরী, অমিত চক্রবর্তী, মৃন্ময় চক্রবর্তী, উদ্ভব সেন, দুলাল মন্ডল, রাজু গোস্বামী, গৌরাঙ্গ মোদক, কার্তিক পাল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।  আজকের মিছিলে এবং পথ অবরোধে এলাকার মানুষও সামিল হন।

Comments :0

Login to leave a comment