উচ্ছেদ হবে কলেজস্ট্রিট বই পাড়ায়, এমনই আতঙ্কে রয়েছেন দোকানিরা। জানা গিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশনের নাম করে কয়েক জন দোকানদারদের বলে গিয়েছেন রাস্তা খালি করে দিতে হবে বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ফুটপাতের বইবিক্রেতাদের। উচ্ছেদের আতঙ্ক সৃষ্টি করার প্রতিবাদে কলেজ স্ট্রিট কফি হাউজের সামনে গণ জমায়েত ও বিক্ষোভ সবার ডাক দিয়েছিল সিপিআই(এম) জোড়াসাঁকো ১ এরিয়া কমিটি। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাঞ্জন দে কলকাতা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সংগ্রাম চ্যাটার্জি, সিপিআই(এম) নেতা কলতান দাশগুপ্ত। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা অর্জুন রায়, নিখিল মাইতি সহ নেতৃবৃন্দ।
সভায় সুজন চক্রবর্তী বলেন, "বই পাড়াকে আগলে রেখে রক্ষা করতে হবে আমাদের। উচ্ছেদের পরিকল্পনা বিরুদ্ধে বইপ্রেমী সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে। এর আগে ওই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সুনীতি চট্টোপাধ্যায় নিজে রাস্তায় নেমেছিলেন। এশিয়ার বৃহত্তম বই বাজার তার সঙ্গে বৃহৎ পুরনো বইয়ের মার্কেট অনেক দুষ্প্রাপ্য দূর্মূল্য বই এখানে পাওয়া যায়। এই এলাকার সঙ্গে শুধু বই বিক্রেতারা নন যারা বাইন্ডিং করেন যারা বই ছাপান প্রকাশক এবং তাদের পরিবারের রুটি রুজির প্রশ্ন রয়েছে। যদি জোর করে দাপট দেখিয়ে উচ্ছেদে চেষ্টা হয় তাহলে মানুষই প্রতিহত করবে।"
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেবাঞ্জন দে প্রশ্ন তোলেন, "কমিশনার কিছু জানেন না,কর্পোরেশনের কাছে কোনও খবর নেই সেক্ষেত্রে এই কাজগুলো করছে কারা? বিষয়টা এমন নয় তো যে কিছু জানি না, কিছু করিনি এমনটা করতে করতে সত্যিই একদিন আচমকা বুলডোজার এসে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যাবে সমস্তকিছু ঠিক যেমনটা রাতের অন্ধকারে রেলস্টেশনগুলোতে ঘটেছিল?"
কলতান দাশগুপ্তের কথায় বিজেপি আরএসএস আসলে ওদের পছন্দমত বই বাজারে প্রচার করতে চায়। বারংবার ইতিহাস বিকৃতি করার মধ্যে দিয়ে তাদের যে ঘৃণার রাজনীতি প্রকাশ পায়। ওদের ইতিহাস মানুষকে ভাগের ইতিহাস। ফলে বিরোধী স্বর, বিরোধী মত, বিরোধী চিন্তা ভাবনা দেখলেই সেখানে আঘাত আনবে, আক্রমণ আনবে। কিন্তু যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজ তুলতেই হবে। কে বা কারা এই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে প্রশাসনকে।
Comments :0