হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার একটি সরকারি কলেজে এক ছাত্রীর মৃত্যুর পর, তিনজন ছাত্রী এবং একজন অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধে র্যাগিং এবং যৌন হয়রানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা কেবল তাকে করেনি, বরং তাকে মারধরও করেছে, যার ফলে ১৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটির মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর আগে, ছাত্রীটি একটি মোবাইল ভিডিও রেকর্ড করে যেখানে সে তার নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। সে বলে যে অধ্যাপক তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছেন। ভিডিওতে সে মানসিক ও যৌন হয়রানির আরও বেশ কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেয়। সে অভিযোগ করে যে যখন সে প্রতিবাদ করে, তখন অভিযুক্ত তাকে চুপ থাকার হুমকি দেয়। সংবাদ সংস্থার খবরে জানা গেছে নির্যাতনের জেরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। মৃত্যুর আগে মোবাইলে রেকর্ড করা একটি ভিডিও সামনে আসতেই গোটাঘটনায় হিমাচলপ্রদেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে লুধিয়ানার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতিতা ছাত্রীর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে তিন সিনিয়র ছাত্রী, হর্ষিতা, আকৃতি এবং কমলিকা তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করে এবং চুপ থাকার হুমকি দেয়। তিনি কলেজের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধেও অশালীন আচরণ এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। মৃত্যুর আগে মোবাইলে রেকর্ড করা ভিডিওতে ওই কলেজের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে স্পর্শ করা সহ কলেজ চত্বর মানসিক হেনস্থার ও অভিযোগ করেন ওই মৃত ছাত্রী। ওই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেই তদন্তের মোর ঘুরে যায়। মৃত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, মানসিক ট্রমার কারণেই তাদের মেয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। যার ফলে সে আগে অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি। শেষে ২৬ ডিসেম্বর মেয়ের মৃত্যু হয়। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি ২০ ডিসেম্বর পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। পুলিশের এক আধিকারিক অশোক রতন জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের মতে, ২০ডিসেম্বর দায়ের করা অভিযোগে কেবল র্যােগিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তারা র্যাজগিংয়ের দিক থেকে তদন্ত করছে। তবে, অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসার পর, তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে ছাত্রীটি যে সমস্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, সেই সমস্ত হাসপাতালও তদন্ত করে দেখা হবে। তবে গোটা ঘটনায় প্রশাসন নিজের দায় ঝেড়ে ফেলেছেন। কলেজ কতৃপক্ষ দাবি করেছে ছাত্রীটি প্রথম বর্ষে ফেল করেছে কিন্তু তবুও দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়া অভিযোগ করেছেন যে তিনি আগে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি।
Student Death
হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার ছাত্রীর মৃত্যু, অভিযুক্ত অধ্যাপক সহ তিন ছাত্রী
×
Comments :0