Abhisekh Banarjee

তিনজন জীবিত ভোটারকে মঞ্চে তুলে নিজের ভোট লুঠ ভোলাতে চাইলেন অভিষেক

রাজ্য

এসআইআর, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে বারুইপুরে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। কিন্তু সংসদে তৃণমূলের সাংসদরা রাজ্যের মানুষের দাবি দাওয়া নিয়ে কী ভূমিকা পালন করলেন সেই নিয়ে একটাও কথা বললেন না অভিষেক ব্যানার্জি। 
অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ‘বাংলার গরিব মানুষকে সমস্যায় ফেলতে এসআইআর। বিজেপি জল দিতে পারে না, বায়ু দিতে পারে না। মধ্য প্রদেশে মানুষ পানীয় জল খেয়ে মারা গিয়েছে। দিল্লির বাতাসে বিষ। মোদী বলেছিল বছরে দু কোটি চাকরি দেবে, ১১ বছরে ২২ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। কত চাকরি দিয়েছে? মিথ্যা কথা বলছে।’
এদিন সভায় অভিষেক মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস নামে তিনজন ব্যক্তিকে মঞ্চে উপস্থিত করেন। অভিষেকের অভিযোগ এই তিনজনকে মৃত বলে এসআইআরে দেখানে হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিষেক যেই এলাকার সাংসদ সেই ডায়মন্ড হারবারে তিনি জয়ী হয়েছে জাল ভোটারদের ভোটে। এই অভিযোগের প্রমাণ বারবার দেখিয়েছে সিপিআই(এম)। পঞ্চায়েত, পৌরসভা, বিধানসভা হোক লোকসভা প্রতিটা নির্বাচনে ভোট লুঠ করে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। এদিন বারুইপুরের অভিষেকের সভায় ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর খান। কে এই জাহাঙ্গীর? এর বিরুদ্ধে রয়েছে দেদার ভোট লুঠের অভিযোগ। মৃত ভোটারের নাম দিনের পর দিন তালিকায় রেখেছে তৃণমূল। আর এই মৃতদের ভোটে জয়ী হয়েছে অভিষেক।
২০১১-য় তৃণমূল একটি নির্বাচনী ইশ্‌তেহার প্রকাশ করেছিল। সেখানে তারা বলেছিল যে, শিল্পে ‘সবুজ বিপ্লব’ তাদের লক্ষ্য। প্রতিটি মহকুমায় ১০টি করে শিল্প গড়ে তোলা হবে তৃণমূল সরকারে এলে। তৃণমূল সরকার গড়েছিল। রাজ্যে ৫২টি মহকুমা। গত সাড়ে ১৪ বছরে কোন মহকুমায় ক’টি শিল্প গড়ে তুললেন মমতা ব্যানার্জি, সেই কৌতূহল রাজ্যের মানুষের থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে তার কোনও উল্লেখ নেই। ২০১৫ থেকে ২০২৫— রাজ্যে এগারোটি ‘বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলন’ করেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। প্রতিটি শিল্প সম্মেলনের শেষে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কত টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এল— তা সবিস্তারে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই শিল্প সম্মেলনগুলিতে মোট ১৮,১৬,৯২৪ কোটি ২লক্ষ টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে তার কোনও উল্লেখই রাখা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সেই বিনিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে কত শিল্প হয়েছে— এসবের কোনও উল্লেখ ‘উন্নয়নের পাঁচালী’তে নেই। 
২০১১-র সেই ইশ্‌তেহারে মমতা ব্যানার্জির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, রাজ্যের যুবকদের কাজের জন্য তাঁর সরকার ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ তৈরি করবে। চাকরি হবে সেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রীর বহু আকাঙ্ক্ষিত গদিতে বসতে পারার পর তৃণমূল নেত্রী ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ গঠন করেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রাজ্যের কত যুবক চাকরি, কাজ পেয়েছেন, তার কোনও তথ্য এই ‘পাঁচালী’তে নেই। আশ্চর্যজনকভাবে ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’-এর কোনও উল্লেখই নেই এই পুস্তিকায়। সরকার কী মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা ভুলিয়ে দিতে চাইছে? 
পুস্তিকায় দাবি করা হয়েছে যে, গত সাড়ে ১৪ বছরে ২কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। অর্থাৎ বুথপিছু গড়ে ২৪৮জন চাকরি পেয়েছেন। রাজ্যে এমন কোনও বুথ আদৌ আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো ২০২১-এর ৫ ফেব্রুয়ারির বিধানসভার ভাষণের অংশ। ‘‘গত ১০ বছরে আমাদের সরকার ১ কোটি ১২ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।’’ মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন সেদিন। সেদিন তিনিই বিধানসভায় বাজেট পেশ করেছিলেন। কারণ তৎকালীন অর্থ মন্ত্রী অমিত মিত্র অসুস্থ ছিলেন। তাহলে পাটিগণিত কী বলছে? গত পাঁচ বছরে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ অনুসারে রাজ্যে ৮৭লক্ষ ৫০ হাজার কাজের ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল সরকার। যদিও ২০২১-এর ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার ভাষণে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন যে, আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। নিজের সেই ভাষণগুলির কথা মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর বশংবদ আমলাকুলও মনে রাখতে পারেননি। ফলে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’র হিসাবেও মমতা ব্যানার্জি ব্যর্থ হয়েছেন। বিস্ময়কর হলো, সরকারের দাবি অনুসারে প্রথম দশ বছরে বুথ পিছু ১৪৩জনের কাজ পরের পাঁচ বছরে বুথপিছু ২৪৮-এ পৌঁছে গেছে! অথচ মমতা ব্যানার্জিই দলীয় সমাবেশে, একটি সংগঠনের সভায় বলেছেন ৫০ লক্ষ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক। তাহলে ‘পাঁচালী’র বিবরণকে ভাঁওতা ছাড়া আর কী বলা যায়?

Comments :0

Login to leave a comment