নিউ কোচবিহার স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় পুনরায় ব্যবসা করার ব্যবস্থা, দ্রুততার সঙ্গে তাদের ক্ষতিপূরণের সুনিশ্চিতিকরণ, প্রত্যেক হকারকে লাইসেন্স দেওয়া এবং তাদের প্রত্যেকের পরিচয়পত্র দেবার ক্ষেত্রে রেল দপ্তরকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি আগামী ১০দিনের মধ্যে পূরণ করা না হলে আমরণ অনশন আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিলো সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন।
সংশ্লিষ্ট এই দাবি সমূহের ভিত্তিতে বুধবার মিছিল ও বিক্ষোভের পাশাপাশি নিউ কোচবিহার রেল ষ্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এর মাধ্যমে আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের ডিআরএম-কে ডেপুটেশন দেওয়া হয় এদিন। এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন এই উচ্ছেদ হওয়া হকাররা। নেতৃত্ব দেন মনোজ কুমার দাস, সুবোধ চক্রবর্তী,আইনুল হোসেন, অমল দাস প্রমূখ।
চলতি মাসের ২১তারিখ রেল দপ্তরের উচ্ছেদ অভিযানে বিপর্যয় নেমে এসেছে নিউ কোচবিহার রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের জীবনে। রীতিমতো বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০০ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রেল দপ্তরের এই কর্মকাণ্ডে রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী। ফলে চরম সংকটে এই ব্যবসায়ীদের পরিবার পরিজনদের পাশাপাশি এই সমস্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দোকান কর্মচারীদের পরিবারগুলিও। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তারা। এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে লাল ঝান্ডা।
এদিন আন্দোলনের নেতৃত্ব মনোজ কুমার দাস এদিন বলেন, "রাজ্যে একমাস হয়নি নতুন সরকার গঠন করেছে বিজেপি, আর এরপরই কেন্দ্রীয় রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সরকার মানুষের রুটি-রুজির উপর আঘাত নামিয়ে আনছে। কর্মসংস্থানের জায়গাগুলি বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে লাল ঝান্ডা হকারদের পূনর্বাসন সহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে এদিন এই মিছিল বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচিতে শামিল হয়েছে।" পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দাবি সমূহ নিয়ে আলিপুরদুয়ারে ডিআরএম দপ্তর অভিযানে তারা শামিল হবেন। এরপরও দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশনের পথেই হাঁটবেন তারা বলে এদিন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
Comments :0