অঝোরে বৃষ্টি চলছে বাইরে। ভাসছে এসএসকেএম চত্বর। বৃহস্পতিবার, তার মধ্যে, ট্রমা সেন্টারের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে রাজকুমার, বাবা দুর্বাশা মাল্লা ভর্তি হাসপাতালেই।
‘‘বাবা লোহার কাজ করতেন। তারাতলার গোডাউনে কাজ করছিলেন। বুধবার হাসপাতাল থেকে বেলা সাড়ে বারোটায় খবর যায় কৃষ্ণনগরে আমাদের বাড়িতে।’’
দুর্বাশা মাল্লা এখন কিছুটা ভালো। জানিয়েছে হাসপাতাল। তবে এদিন তারাতলায় গোডাউনে বিপর্যয়ে মৃত ১১ শ্রমিকের নাম জানানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন ১৯ শ্রমিকের তালিকাও দেওয়া হয়েছে।
তারাতলায় বেস ব্রিজের কাছে চলছে উদ্ধারের কাজ। ঠিক কতজন কাজ করছিলেন নির্দিষ্ট নয়।
আলোড়নের মধ্যে সন্ধ্যায় খবর এসেছে যে তারাতলা কাণ্ডেই কলকাতা কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অন্যতম সহকারি এবং অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি কালীচরণ ব্যানার্জিকে জেরার জন্য আটক করেছে পুলিশ। এর আগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার বা আটক করেছে পুলিশ।
এদিন বিধানসভাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পৌরসভায় ‘কালী’ না বললে কোনও প্ল্যান পাশ হয় না।’’
যেভাবে ভেঙে পড়েছে গোডাউন তাতে প্ল্যান পাশ করানো নিয়ে অভিযোগ উঠেছে ঘটনার দিন, বুধবার, থেকেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত হবে কি?
তারাতলায় বেস ব্রিজের কাছে ভেঙে পড়া গোডাউনের জমি আদতে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের। জমিতে বেআইনি দখলদারি এবং লিজের প্রক্রিয়া নিয়ে চলতি বছরেই এপ্রিল এবং মে-তে একাধিক চিঠি দিয়েছিল ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড ওয়ার্কমেনস ইউনিয়ন।
ইউনিয়নের সভাপতি সরফরাজ আলম বন্দরের এস্টেট ডিভিশনে চিঠি দিয়ে জানান যে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরের প্লেট নম্বর ডি ২৪৭/৩-তে ‘অক্টাভিয়াস টি‘-র নামে গোডাউন দেওয়া হয়েছে বেহরা ব্রাদার্সকে। তাদেরই ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন চাইলেও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। ইউনিয়নের দাবি ২৪ এপ্রিল এস্টেট ডিভিশনের বক্তব্য প্রকাশ করতে হবে। কর্মী ইউনিয়নই চিঠিতে জানিয়েছিল যে আসগর হুসেনকে বেহারা ব্রাদার্স নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছে। এই আসগর হুসেন পোর্ট জমি বেদখল করে রেখেছে। বিশদে সব ধরনের নির্মাণ খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছিল ইউনিয়ন। লিখিত আদানপ্রদান পাঠানো হয়েছে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং বন্দর ও জাহাজ মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারিকে।
ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড ইউনিয়ন জানিয়েছে জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণ সম্পর্কে অভিযোগ প্রথম জানানো হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরেই।
ফলে দাবি উঠছে, পোর্ট ট্রাস্টের বক্তব্য কী। এতদিন চুপ করে রয়েছে কেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন যে বন্দরের জমি বেসরকারি মালিকানায় দেওয়া হচ্ছে। বন্দর সরাসরি আয় করে না। লিজ দেয় কম পয়সায়। তারপর ইয়ার্ড বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহারের জন্য অন্য কোম্পানিকে দেয়। স্ট্র্যান্ড রোড থেকে তারাতলা পর্যন্ত একাজ চলছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ বামপন্থী কর্মী ইউনিয়ন আগেই তুলেছিল।
Taratala Port Trust
নজরে গোডাউনের প্ল্যান, আটক কর্পোরেশন ‘ওএসডি’, নিষ্ক্রিয় কেন পোর্ট ট্রাস্ট
×
Comments :0