প্রায় ১৪ মাস ধরে বিড়ি শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে অবশেষে কাটোয়া মহকুমার বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বাড়লো প্রতি হাজারে ২৫ টাকা।
বর্ধমান জেলা বিড়ি ওয়াকার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাধন দাস জানান যে, গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে জেলা জুড়ে মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও কাটোয়া মহকুমা ছিল তার ব্যতিক্রম। শ্রমদপ্তরে মজুরি বৃদ্ধির জন্য বারংবার ডেপুটেশন, মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিড়ি শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় জুড়ে অবস্থান, মহকুমার বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে এবং কাটোয়া শহর ও দাঁইহাট শহরের বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় বিড়ি শ্রমিকদের সংগঠিত করতে ছোট ছোট বৈঠক সভা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে মহকুমার বিড়ি কারখানার মালিকদের কাছে দাবিপত্র ও দেওয়া হয়।
অবশেষে আজ কাটোয়া মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার কাটোয়া মহকুমার ৪৩ জন বিড়ি কারখানার মালিক ও সিআইটিইউ অনুমোদিত বর্ধমান জেলা বিড়ি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নকে মজুরি বৃদ্ধির জন্য আলোচনায় ডাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার শেষে এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ৭ মার্চ ২০২৬ থেকে কাটোয়া মহকুমার প্রত্যেক বিড়ি কারখানার মালিককে যেখানে যা মজুরি আছে তার উপর ২৫ টাকা (প্রতি হাজারে) মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। এই চুক্তি অমান্য করলে শ্রম দপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আজকের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সিআইটিইউ অনুমোদিত পূর্ব বর্ধমান জেলার বিড়ি ওয়ার্কাকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কর্মকার, সভাপতি সাধন দাস ও অনিতা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শ্রমিকদের পক্ষে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নজরুল ইসলাম, সুজিৎ রায়, নাসিরউদ্দিন শেখ, সুভাষ হাওলাদার প্রমূখ। প্রায় দেড় ঘন্টার বৈঠক শেষে অপেক্ষারত শ্রমিকদের সামনে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন মৃণাল কর্মকার।
সিআইটিইউ পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, "মজুরি চুক্তি কার্যকর করতে শুধু কাটোয়া শহর, দাঁইহাট শহর নয় মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রামেও লাল ঝান্ডা হাতে শ্রমিকদের লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হবে। খাতায় কলমে চুক্তি হলেই শ্রমিকরা মজুরি হাতে পাবেন এমনটা সব ক্ষেত্রে হয় না।" তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "৭ মার্চের পর থেকে কাটোয়া মহকুমার কোথায় কোন মালিক বর্ধিত মজুরি দিচ্ছেন না তার তালিকা করুন, ইউনিয়নে আলোচনা করুন, সমগ্র মহকুমা জুড়ে বঞ্চিত শ্রমিকদের সঙ্ঘবদ্ধ করে বর্ধিত মজুরি আদায়ের লড়াই গড়ে তুলুন। শুধু বিড়ি শ্রমিকদের ইউনিয়ন নয়, সকল অংশের শ্রমজীবীদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির সাহায্যে মজুরি আদায় করতে হবে। লাল ঝান্ডার শক্তি হতদরিদ্র বিড়ি শ্রমিকদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বত্র মজুরি বৃদ্ধি লড়াইয়ে জয় লাভের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক ভারসাম্যেরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে শ্রমিকদের পক্ষে।"
bidi worker
দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে কাটোয়ায় মজুরি বাড়লো বিড়ি শ্রমিকদের
জুরি আন্দোলনে জয়ের পর কাটোয়া এএলসি দপ্তরে বিড়ি-শ্রমিকদের জমায়েতে বক্তব্য রাখছেন নজরুল ইসলাম।
×
Comments :0