"আইনের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য আইন। দরকার হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে, কিন্তু বৈধ্য ভোটাদের নাম ভোটার লিস্টে তুলতে হবে।"- বালিগঞ্জের লোয়ার রেঞ্জ-র সভা থেকেএমনটাই বলেন মীনাক্ষী মুখার্জী।
বাংলায় বুলডোজার রাজ বন্ধ করা, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে, বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার এক সমাবেশ করে সিপিআই(এম)। এদিন সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জী, রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, সিপিআই(এম) নেত্রী আফরিন বেগম শিল্পী, যুব নেতা সৈনিক সুর সহ সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ।
মীনাক্ষী মুখার্জী বলেন, "সরকার পরিবর্তন হলো কিন্তু এসআইআর-এর সমস্যার কোনও সমাধান হলোনা। সরকার গঠনের পর ক্যাবিনেটের অনেকগুলি বৈঠক হয়েছে। সরকার-র কাজ শুরু হয়ে গেছে - তা গরিব মানুষের উপর বুলডোজার নামানো হোক, হকার উচ্চেদ সহ কাকে কোথায় চুপ থাকতে হবে সব নির্দেশ ও দিয়ে ফেলেছেন কিন্তু ক্যাবিনেট মিটিঙে এসআইআর নিয়েএকটাও সঠিক ব্যবস্থার কথা শোনা গেলো না।"
তিনি বলেন, "মনে রাখতে হবে, আইনের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য আইন। দরকার হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে, কিন্তু বৈধ্য ভোটাদের নাম ভোটার লিস্টে তুলতেই হবে। এই এসআইআর'র আইন যখন ব্যবহার করা হয়েছিল তখনই বোঝা গেছিলো বিজেপি ঠিক কি করতে চায়। ভোটের আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রোজ দেখা যাচ্ছিলো এসআইআর-র বিষয় নিয়ে একবার মমতা দৌড়াচ্ছেন তো একবার শুভেন্দু দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু ভোটের পর মানুষের নাম তোলা নিয়ে কারুর কোনও দৌড় নেই।"
এদিনের সভা থেকে শতরুপ ঘোষ বলেন, “গোটা বাংলাজুড়ে হকারদের দোকানের উপরে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মোদির জামানায়, রেলের টেন্ডারে ,কর্পোরেটদের দোকান করার অধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে ঝালমুড়ি খেয়ে ভোটপ্রাচার করে গেলো কিন্তু ভোটের পর ঝালমুড়ি ওয়ালাদেরই দোকান তুলে দিল- এ কেমন সরকার ? হকাররা সৎপথে রোজগার করছেন, স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও কোনও সরকার যদি তাদের চাকরির ব্যবস্থ্যা না করতে পারেন তাহলে এটা হকারদের ব্যার্থতা নয়, এটা সরকারের ব্যার্থতা যেমন বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল সরকারের ব্যার্থতা তেমনি বামফ্রন্টেরও ব্যার্থতা। হকারদের তুলে দেওয়া মানে তার সন্তানদের শিশুশ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিক হতেবাধ্য করা- শুভেন্দু অধিকারী কি তা জানেন না।”
সমাবেশ থেকে আফরিন বেগম শিল্পী বলেন, "ভোটে জেতার পর বিজেপি বুলডোজার রাজ কায়েম করেছে এ রাজ্যে। অবৈধ নির্মাণের নাম করে গরিব মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নিচ্ছে তারা। কোর্টের নোটিশ ছাড়া বুলডোজার দিয়ে একের পর এক বাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে। আমি সরকারের কাছে প্রশ্ন করতে চাই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার আগে সরকার কেন গরিব মানুষের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলো না? পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোন গরীব মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া যাবে না। বুলডোজার রাজের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আরো দৃঢ় হবে।"
Comments :0