বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন হুগলী জেলার খানাকুলের সিপিআই(এম) তথা জেলা খেতমজুর ইউনিয়নের নেতা স্বদেশ চোয়ান। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯ টা নাগাদ তিনি খানাকুলের ঠাকুরানীচকে বীণাপাণি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পার্টির দক্ষিণ-পশ্চিম পার্টি শাখা অফিসের দাওয়াতে বসে ছিলেন। ওই সময় বিজেপির দুষ্কৃতীরা ২টি মোটর সাইকেলে চেপে ৪ - ৫ জনের দল অতর্কিতে এসে বিদ্যুত ট্রান্সফরমার জাম্পার নামিয়ে গোটা এলাকা অন্ধকার করে দিয়ে স্বদেশ চোয়ানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মারধরের ফলে স্বদেশ চোয়ানের বাঁ পায়ের হাঁটুর মালাইচাকি, কোমরের হাড়, বাঁ হাতের কবজি, বাঁ হাতের দু’ টি আঙ্গুল ভেঙেছে। কোমরে জোরালো আঘাত সহ গোটা শরীরে চোট লেগেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে হাড়ে চিড় ধরেছে। ওই রাতেই পরিবারের লোকজন তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি ভিত্তিতে রাতেই তাঁর বেশ কিছু এক্সরে করা হয়েছে। তিনি গোটা শরীরের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম পা ও বাম হাতের প্লাস্টার হয়েছে। পরে তা অপারেশন করতে হবে বলে জানা গেছে। স্বদেশ চোয়ান সিপিআই(এম) খানাকুল ১ পশ্চিম এরিয়া কমিটির সদস্য ও খেতমজুর ইউনিয়নের হুগলী জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
বুধবার আরামবাগ হাসপাতালে দুপুরে এবং বিকালে আক্রান্ত পার্টিনেতার সঙ্গে দেখা করে শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন পার্টি নেতৃবৃন্দ। ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হুগলী জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ, জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আব্দুল হাই , স্নেহাশীষ রায়, জেলা খেতমজুর ইউনিয়নের সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মিন্টু বেরা, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি ভাস্কর রায়, পার্টিনেতা ভজহরি ভুইয়্যা, শক্তি মোহন মালিক, সুশান্ত কুমার মন্ডল, সুশান্ত চক্রবর্তী, জাকির হোসেন, ভোলানাথ মালিক, অরুণ ঘোষ, বিপ্লব মৈত্র, মিঠু মালিক সহ অন্যান্যরা।
পার্টির হুগলী জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ পার্টি নেতার উপর আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর রাজ্যে, জেলায় ও এলাকায় এলাকায় দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সন্ত্রাস করলো তৃণমূল। এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই করলো বামপন্থীরা। আর অদ্ভুত বিষয় ক্ষমতা পেয়ে ওরা আক্রমণ করছে সিপিআই(এম )কে। কেন ? আসলে ওরা আমাদের মতাদর্শ, রাজনীতিকে ভয় পাচ্ছে। ওরা জানে সিপিআই(এম) যে কোন জনবিরোধী নীতি ,কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। এখনই যেমন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে,বুলডেজার রাজনীতির বিরুদ্ধে একমাত্র পথে সিপিআই(এম)। তিনি আরো বলেন, আক্রান্ত স্বদেশ চোয়ান আমাদের এলাকার পার্টি নেতা। ২০১১ সালের পর ওকে বহুদিন ঘরছাড়া হতে হয়, মিথ্যা মামলা, শারীরিকভাবে আক্রমণ করে তৃণমূলীরা। আবার এখন বিজেপি তৃণমূলের দেখানো পথে আক্রমণ ,অত্যাচার শুরু করেছে। জনগণ যেমন তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এই পথে চললে বিজেপি’র ওই একই হাল হতে সময় বেশি লাগবে না। ওসব মারধোর, অত্যাচার অনেক দেখেছি।ওসব দিয়ে কমিউনিস্টদের রোখা যাবে না ,খানাকুলেও না।
Attacked CPI(M) Leader
খানাকুলে আক্রান্ত সিপিআই(এম) নেতাকে দেখতে হাসপাতালে নেতৃবৃন্দ
×
Comments :0