হামলা হচ্ছে, বাঁধা আসছে। পুলিশ এসে ভেঙে দিচ্ছে, বলছে উঠে যেতে। তাও রাজ্য জুড়ে চলছে বামপন্থীদের বুক স্টল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন স্টল করতে দেবেন না। তাও লড়াই চোখে চোখ রেখে। শারদীয়া উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে বুক স্টল করেছে বামপন্থীরা। আর এই স্টল করতে গিয়ে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। ভেঙে দেওয়া হয়েছে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তাও স্টল চলছে।
গুণ্ডা দিয়ে না হওয়ায় পুলিশ কে ব্যবহার করছে বিজেপি। গতকাল সিপিআই(এম) হালতু এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে পূর্বাচল শক্তি সংঘের সামনে প্রতি বছরের মতো এবারও স্টল হয়েছে। গতকাল স্টলের উদ্বোধনের পর গড়ফা থানার আধিকারিকরা এসে বলেন স্টল তুলে দিতে। পাশে বিজেপির স্টল নিয়ে কোন আপত্তি নেই পুলিশের। তাদের উঠে যেতে বলা হয়নি। সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য অশেষ বিশ্বাসের কথায়, 'দলদাস পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে আমাদের ১০৬ নং ওয়ার্ডের বুকস্টল ভেঙে বা তুলে দেবার লিখিত নির্দেশ দেখিয়ে গেছে। বলেছে রাস্তায় বুকস্টল করার পারমিশন নেই। অথচ কয়েকদিন আগে যখন সব খোলা ছিল তখন ১২ নং বরো অফিসে দরখাস্ত সহ প্রয়োজনীয় ফী বাবদ টাকা জমা দিতে গেলেও তা নেয়নি। এখন কোর্ট, পৌর ও সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় কোথাও ফী দেবার সুযোগও নেই।
সুতরাং যত বাধা আসুক নির্ধারিত দিনগুলোতে বুকস্টল খোলা থাকবে।'
এর আগে কসবায় স্টল করতে বাধা দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু স্টল হয়েছে। ঢাকুরিয়াতেও হামলা হয়েছে, তাও স্টল হয়েছে। গতকাল ঢাকুরিয়া স্টেট ব্যাঙ্ক এর সামনে সিপিআই এর বুক স্টল ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। যা নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।
এই পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, 'সরকার উৎসবে মেতেছে কিন্তু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। বামপন্থীদের বুকস্টল করতে বাধা দেওয়াই যেন প্রধান কাজ। শত বাধা পেরিয়েও বুকস্টল গুলিতে প্রচুর মানুষ আসছেন। নতুন প্রজন্ম ভারতের স্বাধীনতা, বামপন্থীদের ভূমিকা সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছে, বই কিনছে। বাংলা সহ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।'
উল্লেখ্য সরকার বদলেছে কিন্তু আক্রমণের চরিত্র বদলায়নি। ২০২২ সালে রাসবিহারীতে বুক স্টল করায় কল্লোল মজুমদার, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, কমলেশ্বর মুখার্জি কে আটক করেছিল পুলিশ।
Book stall
হামলা হুমকি উপেক্ষা করেই চলছে বুক স্টল
×
Comments :0