নতুন যৌবনের যে স্রোত প্রতিবাদে মুখর হয়ে রাস্তায় নেমেছে বামপন্থাই তাকে সঠিক দিশা দেখাতে পারবে। সোমবার কমরেড সুভাষ চক্রবর্তীর প্রয়াণ দিবসে দমদমে সুভাষ চক্রবর্তী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনাসভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ইতিহাসের প্রতিটি পর্বেই নতুন প্রজন্ম তাদের সমস্যার থেকে মুক্তির জন্য সমকালীন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। মুক্তির পথ খোঁজে। এখনও সমাজের হতাশা কাটিয়ে নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদে রাস্তায় মুখর হয়েছে। সিস্টেম দাবি না মানলে সিস্টেম বদলানোর দাবিতে রাস্তায় লড়ছে। তাদের পাশে থেকে তাদের লড়াইকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে বামপন্থীরাই।
এদিন সন্ধ্যায় দমদমের সুরের মাঠে রবীন্দ্রভবনে স্মরণে সুভাষ অনুষ্ঠানটিতে স্মারক আলোচনায় অংশ নেন মহম্মদ সেলিম, ছাত্রনেতা দেবাঞ্জন দে, দীপ্সিতা ধর, শতরূপ ঘোষ, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ নেতা তড়িৎবরণ তোপদার। সঞ্চালনা করেন ময়ূখ বিশ্বাস। সঙ্গীত পরিবেশন করেন আরিত্রিকা সিনহা ও সুভাষ চক্রবর্তীর নাতনি সুকথা চক্রবর্তী। সভার শুরুতেই রমলা চক্রবর্তী বলেছেন, আজকের দিনে হকার ও বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে এবং শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষায় যে আন্দোলন চলছে, ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্ম যে আন্দোলন করছে তার ধারায় সুভাষ চক্রবর্তী ছিল, আছে এবং থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কান্তি গাঙ্গুলি, রবীন দেব, রেখা গোস্বামী, পলাশ দাশ, গার্গী চ্যাটার্জি, সায়নদীপ মিত্র, সুভাষ চক্রবর্তীর পুত্র অনুভব চক্রবর্তী সহ বহু বিশিষ্টজন। সুভাষ চক্রবর্তীর প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘শিক্ষার কমল বনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদই সমাজের কন্ঠস্বর’ বিষয়ে স্মারক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে নৃত্যানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
আলোচনায় মহম্মদ সেলিম বলেন, গোটা বিশ্বে ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে নয়া ফ্যাসিবাদীরা। ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, গরিব মানুষের লড়াই আন্দোলনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এই বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে নতুন প্রজন্মকে সামনের সারিতে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, দিল্লিতে ও তারপর সারা দেশে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন আদৌ আকস্মিক নয়। নিট পরীক্ষা ও শিক্ষাক্ষেত্রে যে দুর্নীতি চলছে, তার বিরুদ্ধে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছিল। দীর্ঘদিন ছাত্ররা প্রতিবাদ করছিল, কিন্তু সরকার কোনও কথা কানে নেয়নি। এই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার মর্যাদা ও মূল্যবোধ শেষ করা হয়েছে সারা দেশে। নিট পরীক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে, আজ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে অভিভাবকরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। আরএসএ বিজেপি ধর্মের নামে সরকার চালিয়েও ধর্মেন্দ্রকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে আন্দোলনের চাপে। মানুষের হতাশাকে নতুন প্রজন্ম কাটিয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে কলকাতার বুকেও। আমরা বামপন্থীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে শুরু থেকে এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছি। বামপন্থীরা একসঙ্গে পাশে থাকলে অনেক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এখন বৃহত্তর বাম আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
সেলিম বলেন, উদারীকরণের পথে নতুন প্রজন্মকে আত্মকেন্দ্রিক করা হচ্ছিল। হতাশ হয়েছিল অনেকেই। কিন্তু এই প্রজন্মই শিক্ষার সর্বনাশের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ রাস্তায় নেমেছে। শুধু যন্তর মন্তর নয়, সারা ভারতে। এই আন্দোলন দমন করতে তৎপর হয়েছে নয়া ফ্যাসিবাদীরা। সংবিধানে যাই লেখা থাক, এই শাসকরা নিজেদের মতো আইন তৈরি করে শাসন চালাতে চায়। এরাজ্যের সরকার থেকে আপদ গেছে, বিপদ এসেছে। মানুষ বুঝতে পারছে বলে এ রাজ্যেও প্রতিবাদ হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পরে এত দ্রুত কোনও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠবে তা কেউ ভাবেনি। এরা স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারা, নেতাজী, গান্ধীজী কাউকে সম্মান জানাচ্ছে না। স্বাধীনতা আন্দোলনে ওদের কোনও ভূমিকা ছিল না, তাই স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, মনীষীদের মূর্তি ভাঙছে। গুন্ডা দমন আইনের নামে আইন করে আন্দোলন ভাঙতে চাইছে। আদালতে আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি, গুণ্ডা বলে কিছু সংবিধানে নেই, এমন আইন বৈধ হতে পারে না। ওরা ভয় পেয়েছে বলে আক্রমণ শানাচ্ছে। তাই ছাত্রদের আন্দোলন ভাঙতে দিল্লিতে পেলেট গান ব্যবহার করেছে। আগে কাশ্মীরে করেছে, এখন দিল্লিতেও ব্যবহার। দেশের মানুষ চাইছে সরকার ক্ষমা চাক।
Md Salim's Speech commemorating Subhash Chakrabarty
সিস্টেম বদলের লড়াইয়ে পাশে থেকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে বামপন্থীরাই
সোমবার কমরেড সুভাষ চক্রবর্তীর প্রয়াণ দিবসে দমদমে সুভাষ চক্রবর্তী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বলছেন মহম্মদ সেলিম। ছবি: সৌদীপ দাস
×
Comments :0