cpim Mostafijur Rahaman

বিধানসভায় শিক্ষা, বর্গার অধিকার, ভাঙন, মজুরির দাবিও মোস্তাফিজুরের ভাষণে

রাজ্য

ভূমিহীনদের বর্গার অধিকার থেকে নদী ভাঙন, সমকাজে সমবেতনের পাশাপাশি শিক্ষা নিয়ে বিশদ দাবি জানালেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। 
মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক ভাষণের ওপর প্রস্তাবে বক্তব্য রাখেন তিনি। ভাষণে অনুপ্রবেশ ঘিরে আতঙ্ক না ছড়ানোর দাবিও তুলেছেন ডোমকলেরত বিধায়ক।
মোস্তাফিজুর বলেছেন, আমি মোট ২৬ টি সংশোধনী দিয়েছিলাম কিন্তু লিপিবদ্ধ হয়েছে মাত্র ১৭ টি সংশোধন। রাজ্যের ভূমিহীনদের বর্গার অধিকারের বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই রাজ্যপালের ভাষণে। একই রকম ভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক কিছু বলা হয়েছে। কলকাতার স্কুলগুলির উন্নতি সাধন করা হবে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে এই রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখান থেকে আমাদের শিক্ষাকে উদ্ধার করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে হবে। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ, বিধানসভার প্রত্যেকটি সদস্যের কাছে। রাজ্যপালের ভাষণে এমএসকে এবং এসএসকে শিক্ষা নিয়ে বলা হয়নি। এমএসকে-এসএসকে’র হাল খুব খারাপ অবস্থাতে রয়েছে। আমি সেই দপ্তরের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। 
তিনি বলেন, ভোকেশনাল শিক্ষার ক্ষেত্রে যারা নিযুক্ত রয়েছে তাদের কথাও ভাষণে ছিল না। পঞ্চায়েতে যারা ট্যাক্স আদায় করে তাদেরও ভাতার ন্যূনতম এই বিষয়টির দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। 
এরাজ্যে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ওশ্বিনী বহিষ্ণব ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। কৃষ্ণনগর করিমপুর হয়ে জলঙ্গি পর্যন্ত রেলপথ কিন্তু আমি চাই ডোমকল সাব ডিভিশন ও বহরমপুর সাব ডিভিশনকে জুড়ে নেওয়া হোক। 


সমকাজে সমবেতনের নীতির কথা বলা হয়েছিল কিন্তু রাজ্যপালের ভাষণে সেই কথা থাকতো তাহলে ভালো হতো। 
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ শেষ পনেরো বছরে ধ্বংস হয়েছে। কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। একচেটিয়া ভাবে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এই ছাত্র সংসদ দখল করে থাকতো। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ যদি রাজ্যপালের ভাষণে থাকতো তাহলে ভালো হতো। মুর্শিদাবাদ জেলায় কাঁসা শিল্প একসময় বিখ্যাত ছিল। রাজ্যপালের ভাষণে এই বিষয়ে থাকলে আরো ভালো। মুর্শিদাবাদ জেলা রেশম শিল্প তাঁত শিল্প একটা সময় ঐতিহ্য ছিল। অনেক মানুষ কাজ করতেন কিন্তু তারা পরিযায়ী শ্রমিক হতে বাধ্য হয়েছেন। তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এই শিল্পগুলিতে ব্যবহার করে ক্ষুদ্রকোটি শিল্প গুলিকে উন্নতি সাধন করতে হবে। না হলে পরিচয় শ্রমিকদের ফেরানো সম্ভব নয়। ডোমকল বিধানসভায় শঙ্খ শিল্প খুবই বিখ্যাত তার উন্নতি সাধন করা প্রয়োজন। এখানে যদি কর্মসংস্থান করা যায় তাহলে খুবই ভালো হবে। 
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই চাই অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হোক। কিন্তু বিগত সরকারের সময় তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। আমরা দেখেছি বীরভূমের একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পুশব্যাক করে আবার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশের একটা অংশের নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা যে অংশেরই হোক সংখ্যালঘু অথবা সংখ্যাগুরু, এর ফলে যেন কোন আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় তা নজর দেওয়া প্রয়োজন। একাধিকবার অনুপ্রবেশের ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে বলা হচ্ছে না কতজন অনুপ্রবেশকারীকে আমরা  বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। 
তিনি বলেন, মালদা-মুর্শিদাবাদের নদী ভাঙ্গন নিয়েও কোন কথা নেই রাজ্যপালের ভাষণে। ডোমকল একটি আই টি আই কলেজ স্থাপন করা হোক এই দাবি আমি জানাবো।

Comments :0

Login to leave a comment