Dhupguri

বিহারের পর্যটক রহস্যমৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

জেলা

ডুয়ার্সে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হওয়া বিহারের পর্যটক রাজেশ কুমারের(৩৮)মৃতদেহ জলঢাকা নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মৃতের পরিবার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি এবং রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার তদন্তের দাবি তুলেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা একটি দেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বুধবার জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মৃত রাজেশ কুমার বিহারের সমস্তিপুর জেলার কেসো নিজামত এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের দাবি, রিসোর্টে অবস্থান কালে রাতে সেখানে থাকা অপর একটি অচেনা পর্যটক দলের সঙ্গে রাজেশের বচসা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়লে তিনি আতঙ্কিত হয়ে রিসোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।পরিবারের অভিযোগ, সামনের গেট দিয়ে বের হতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বাধা দেন। পরে প্রাণভয়ে তিনি রিসোর্টের পেছনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মৃতের পরিবারের আরও অভিযোগ, রিসোর্টের পেছনে যথাযথ সীমানা প্রাচীর বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারে তিনি বিপজ্জনক এলাকায় চলে যান,যার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।পরবর্তীতে তাঁর দেহ জলঢাকা নদী থেকে উদ্ধার হয়।
মৃতের পিতা সত্যনারায়ণ সিং বলেন, "আমার ছেলে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরল না। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল,তার পূর্ণ সত্য সামনে আনতে হবে। রিসোর্টে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকত,তাহলে হয়তো আমার ছেলে বেঁচে থাকত।আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা ঘটনার জন্য দায়ী,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।আমাদের পরিবারের একমাত্র দাবি, যেন আমরা ন্যায়বিচার পাই।"
ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ফুটেজ, উপস্থিত কর্মী এবং ওই রাতে রিসোর্টে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক।
রাজেশ কুমারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, প্রশাসন নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

Comments :0

Login to leave a comment