নতুনপাতা : গল্প
শিউলি ফুল
সৌরীশ মিশ্র
"মা বেরোচ্ছি।" রান্নাঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মা-কে বলল টুয়া।
টুয়ার মা রান্নায় ব্যস্ত ছিলেন। ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, "সাবধানে যাবি। রাস্তার একেবারে ধার দিয়ে দিয়ে যাবি। আর, রাস্তা পার হওরার আগে দু'দিক ভাল করে দেখবি।"
"ঠিক আছে মা। আসি তাহলে?"
"হ্যাঁ, আয়। দুগ্গা, দুগ্গা।"
স্কুলে যাচ্ছে টুয়া। ওর এখন ক্লাস ফাইভ। মর্নিং স্কুল ওর। টুয়ার স্কুল ওদের বাড়ি থেকে একেবারেই কাছে। স্কুলে হেঁটে যায়-আসে ও।
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে কয়েক পা এগিয়েই থমকে দাঁড়াল টুয়া। ওদের বাড়ির সামনে ডানদিক-বাঁদিক দু'দিকেই বাগান। বাঁদিকের বাগানটার দিকে তাকাতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে সে।
টুয়া এবার পায়ে-পায়ে এগিয়ে গিয়ে ঢুকল ঐ বাগানটায়।
ঠিক ধরেছে টুয়া। ক'টা শিউলি ফুল পড়ে আছে বাগানে ঘাসের উপর।
এইদিকের বাগানে পরপর তিনটে শিউলি গাছ আছে। ঐগুলো থেকে ঝরে পড়েছে ফুলগুলো।
টুয়া নিচু হয়ে ফুলগুলো তুলে হাতে নেয়। কি সুন্দর গন্ধই না বার হচ্ছে ফুলগুলো থেকে!
এই বছর এই প্রথম ফুল ফুটল এই গাছগুলোয়। বছরের এই সময়টায় মানে দুর্গাপুজোর একটু আগে থেকে ফুল ফুটতে শুরু করে গাছগুলোয় প্রতি বছর। তারপর, সারাটা শরৎকাল ধরে প্রচুর ফুল দেয় গাছগুলো। এক-একদিন তো গাছ তিনটের তলা সাদায় সাদা হয়ে থাকে ফুলে ফুলে।
আমাদের বাগানে এবছরে প্রথম শিউলি ফুল ফুটল। আর, বাবার তো শিউলি ফুল খুব প্রিয়। বাবাকে ফুলগুলো যাই দেখিয়ে আসি গিয়ে। - শিউলি ফুলগুলো হাতে নিয়ে মনে মনে কথাগুলো ভাবে টুয়া। আর, ভাবনাটা মাথায় আসতেই পিঠের ব্যাগটা ঘাসের উপর নামিয়ে রেখে ফুলগুলো হাতে নিয়ে ফের এক ছুটে বাড়িতে ঢোকে সে। তারপর দ্রুত পায়ে চলে আসে সে বাবার পড়ার ঘরে।
ঘরে ঢুকে, এসে দাঁড়ায় বাবার পড়ার টেবিলের সামনে টুয়া। তারপর, হাতের ফুলগুলো সে রাখে টেবিলের উপর রাখা তার বাবার বাঁধানো ছবিটার সামনে।
"বাবা দেখো, শিউলি ফুল! আমাদের বাগানের! এবছর ফুটল এই প্রথম! দেখছো বাবা, কি সুন্দর ফুলগুলো! কি সুন্দর গন্ধও, তাই না! পাচ্ছ তো বাবা গন্ধ?"
কথাগুলো বলতে বলতেই দু'চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে টুয়ার দু'গাল বেয়ে।
ওর বাবার ফটোটা সযত্নে দু'হাতে টেবিল থেকে তুলে নেয় টুয়া। তারপর, শক্ত করে সে আঁকড়ে ধরে সেটাকে তার বুকের মাঝে। টুয়ার দু'চোখ জলে ভরা।
Comments :0