The turmoil and the Left

ঝড়ের খেয়ায় লাল নাবিকরা

সম্পাদকীয় বিভাগ উত্তর সম্পাদকীয়​

কমলেশ্বর মুখার্জি
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি— এই আপাত বিরোধী দুই শক্তি মূলত একটিই অরাজনৈতিক ও স্বৈরাচারী সত্তার দুটি ভিন্ন মুখোশ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ‘দ্বিমুখ যক্ষ’ বা অন্ধক অসুরের মতো এই দুই শক্তি ভারতের সংবিধানকে পদদলিত করে ধর্মান্ধতা, দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এদের বিরুদ্ধে একমাত্র বিকল্প হিসাবে লড়াই করছে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি।
এক মুখ, দুই মুখোশ’ 
তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার ভান করলেও, তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল হুবহু এক। উভয় দলই জনবিরোধী অর্থনীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, বেলাগাম দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ এবং জনমোহিনী ‘খেলা ও উৎসব’-এর রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিজেপি’র ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করে, অন্যদিকে সংসদে ওয়াকফ আইন, সিএএ কিংবা এনআরসি’র মতো সংখ্যালঘু বিরোধী বিলে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে। দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে এদের নেতারা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে থাকলেও, রহস্যজনকভাবে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
বিজেপি সরাসরি সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করে সংখ্যাগুরুদের ধর্মান্ধতার বিষে আচ্ছন্ন করছে। রাজ্যে মিম (AIMIM) বা এজিইউপি-র মতো প্রক্সি দলগুলোকে মাঠে নামিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চক্রান্ত চলছে, যাতে আখেরে লাভবান হয় এই আরএসএস নিয়ন্ত্রিত ইকোসিস্টেম।
এই দুই দলের শক্তির মূল উৎস হলো একচেটিয়া পুঁজিপতিদের টাকা (যেমন ইলেক্টোরাল বন্ড) এবং তোলাবাজির কালো টাকা। এর বিপরীতে বামপন্থীরা লড়ছে মানুষের মৌলিক অধিকার—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবিতে। দীর্ঘ ৩৪ বছর বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট ছিল; আজও দাঙ্গা রুখতে এবং সম্প্রীতি ফেরাতে বামপন্থীরাই একমাত্র ভরসা।
১৯৯৮ সালে এই সংখ্যাগুরুর পক্ষে থাকা সাম্প্রদায়িক বিজেপি’র নেতৃত্বে তৈরি হওয়া এনডিএ জোটে অংশগ্রহণ ও মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি থেকে শুরু করে, ২০১১ সালে বামফ্রন্ট বিরোধী নীতি-বর্জিত রামধনু জোটে বিজেপি-কে পশ্চিমবঙ্গে ডেকে আনার মূল কারিগর ছিল এই তৃণমূল কংগ্রেসই। তাদের শাসিত সরকারের দীর্ঘদিনের অপশাসন, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নকে কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (সিবিআই, ইডি) আজও বিচারহীন অবস্থায় আদালতে ফেলে রেখেছে এবং প্রমাণের অভাবে অপরাধীদের জামিন পেতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে। বামেদের ভরসা কোনও পুঁজিপতির অনুদান বা দুর্নীতি ও তোলাবাজির টাকা নয়। তারা মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ মজবুত করেই এগোয়। কোথাও রাজনৈতিক অশান্তি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হলে তারাই সর্বপ্রথম প্রশাসনিক ও সামাজিক পদক্ষেপ তারাই হলো এই ঝড়ের খেয়ার সত্যিকারের লাল নাবিক।
সঙ্কট, বেকারত্ব ও অনুদান 
ভারতের পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক মিশ্র অর্থনীতিতে ধর্ম ও জাতপাতের বিভেদকে ব্যবহার করে খেটে খাওয়া মানুষের শ্রেণি সংগ্রামকে ভোঁতা করে দেওয়া হয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান রীতিমতো ভয়াবহ।
দেশের প্রায় ৫৩ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রেই রয়েছেন ৪২-৪৭ কোটি। দেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি এবং যুবশক্তির প্রায় ১০ কোটি কাজের সন্ধানে দিশাহারা। ৮০ লক্ষ গিগ শ্রমিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কোনও কাজের নিরাপত্তা নেই।অথচ গত এক দশকে মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ সম্পদের ভয়াবহ কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। ১ শতাংশ ধনীর হাতে কুক্ষিগত হয়েছে দেশের ২০ শতাংশ সম্পদ। পুঁজিপতিদের ১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মকুব করা হলেও, সাধারণ মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি।
পশ্চিমবঙ্গের চিত্র আরও মর্মান্তিক। গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনও উল্লেখযোগ্য শিল্প হয়নি। শূন্যপদ পূরণ বন্ধ থাকায় রাজ্যের শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় ১৮ শতাংশ। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। সরকার কর্মসংস্থানের বদলে নিঃশর্ত ভাতার রাজনীতি চালু করেছে, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও রাজ্যের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। ঋণের বোঝা ২ লক্ষ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য ভারী শিল্প পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়নি। 
আসল সমস্যা আড়াল
কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি সীমান্তে আগ্রাসন ও উগ্র জাতীয়তাবাদী আবেগকে পুঁজি করে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও ধর্মান্ধতাকে আড়াল করতে চায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ‘বাঙালি বনাম অবাঙালি’ প্রাদেশিকতার ধুয়ো তুলে নিজেদের রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতে সচেষ্ট। অথচ, যখন ৬০ লক্ষ বাঙালি ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে অমানুষিক কষ্টে দিন কাটায় বা লকডাউনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে, তখন এই ‘বাঙালি অস্মিতা’-র ধ্বজাধারীরা নীরব থাকে। এরা গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
বাংলার খেটে খাওয়া গরিব মানুষের জন্যে অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র গঠনমূলক কাজ করে না এই সরকার। ভারতের অন্যত্র যখন পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিক নিধন হয় বা ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়, তখন তার ‘বাঙালি’ পরিচয়কে পুঁজি করে এরা রাজনৈতিক প্রচার করে গলা ফাটায়, কিন্তু সেই হতভাগ্য শ্রমিক কেন নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে পরিযায়ী হয়েছে (প্রায় ষাট লক্ষ মানুষ আজ এই দশায়), তার উত্তর তৃণমূল সরকার দেয় না। 
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা
২০১৪ সালের পর থেকে সারা দেশে একনায়কতন্ত্রের উত্থান ঘটেছে। একদিকে দলিত ও সংখ্যালঘুদের ওপর ‘গোরক্ষা’র নামে মব লিঞ্চিং (আখলাক, পেহলু খান), অন্যদিকে যুক্তিবাদী ও সাংবাদিকদের হত্যা (কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশ)—এই সবই প্রমাণ করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আজ কতটা বিপন্ন। 
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পালাবদলের পর সহিংসতার চরিত্র আরও ভয়াবহ হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা (অভিজিৎ সরকার), গুজব কেন্দ্রিক গণপিটুনি এবং ছাত্র-যুব রাজনীতিতে পুলিশি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস (সুদীপ্ত গুপ্ত, আনিস খান, মইদুল মিদ্দ্যা) নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বে বগটুইয়ের মতো নারকীয় গণহত্যা ঘটেছে, যেখানে নারী ও শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।
প্রথমত,‘হিউমান রাইটস ওয়াচ’ এবং ‘ইন্ডিয়া স্পেন্ড’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ৪০–৫০ জন নিরীহ মানুষ এই ধরনের পাশবিক সহিংসতায় নিহত হন, যাদের অধিকাংশরাই হলেন মুসলিম বা দলিত। মোহাম্মদ আখলাক (দাদরি), পেহলু খান (রাজস্থান) এবং ঝাড়খণ্ডে তাবরেজ আনসারী-র মতো নৃশংস ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই ধরনের ঘটনার কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তথ্য আড়াল করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা যে আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, ঠিক একই সময়ে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট যুক্তিবাদী ও সাহসী সাংবাদিক চরমপন্থী হত্যার শিকার হন। গোবিন্দ পানসারে (২০১৫), এম এম কালবুর্গি (২০১৫) এবং বেঙ্গালুরুতে গৌরী লঙ্কেশ (২০১৭)-এর হত্যাকাণ্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। এদের মধ্যে প্রত্যেকেই ধর্মীয় মৌলবাদ, অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কার এবং দক্ষিণপন্থী আরএসএস’র রাজনীতির তীব্র সমালোচক ছিলেন। দীর্ঘ তদন্তে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং বিভিন্ন বিশেষ তদন্তকারী দল সরাসরি হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনগুলোর যোগসূত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে হিংসা: পশ্চিমবঙ্গেও ২০১১ সালের পর রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতার চরিত্র এক নতুন ও ভয়াবহ রূপে সামনে আসে। বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করতে এই প্রদেশে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৫১ হাজার প্রতিবাদী মানুষ। তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত গুন্ডাদের সন্ত্রাসে ঘরছাড়া হয়েছেন আরও ৫১ হাজার ৭১৪ জন রাজনৈতিক কর্মী। গণতন্ত্র রক্ষায় শহীদ হয়েছেন ২৭৪ জন।
ছাত্র-যুব রাজনীতিকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় সহিংসতাও এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবাদী ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যু বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, যিনি পুলিশের হেপাজতে নির্মম পৈশাচিকতায় প্রাণ হারান। একইভাবে পুলিশি সন্ত্রাসে রাজপথে পিটিয়ে মারা হয় শহীদ মইদুল মিদ্দ্যাকে এবং নিজের বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে খুন করা হয় প্রতিবাদী ছাত্রনেতা শহীদ আনিস খানকে। এছাড়া আনন্দ বর্মণের মতো ঘটনাও দেখায় যে স্থানীয় স্তরে ছাত্র-সংঘর্ষ প্রশাসন ও পুলিশের মদতে কখনও কখনও কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
নারী নিরাপত্তা ও বিচারহীনতা
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে কেন্দ্রে মোদী সরকার আসার পর থেকে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে: ২০১৪ সালে প্রায় ৩৬,৭৩৫টি মামলা, যা বেড়ে ২০১৬-তে ৩৮,৯৪৭-এ পৌঁছায়, এবং পরবর্তী বছরগুলিতে সাধারণত ৩২,০০০ থেকে ৩৩,০০০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে; ২০২২ সালে তা ছিল ৩১,৫১৬টি মামলা। প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় নারী নির্যাতনের হার খুব একটা কমেনি, যা স্পষ্টভাবে দেখায় যে ২০১২ সালের নির্ভয়া বা দিল্লি গ্যাং রেপ-এর পর আইনে কড়া সংস্কার হলেও, সমাজ ও বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে পার্ক স্ট্রিট রেপ কেস নগরের নিরাপত্তা ও নারী অধিকার নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে। ২০১২ সালে কলকাতার অভিজাত পার্ক স্ট্রিটে এক নারীকে চলন্ত গাড়ির ভিতরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেন। 
কামদুনি ধর্ষণ ঘটনা। ২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। এক কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর পাশবিকভাবে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, বিশেষত গ্রামবাসী নারীরা সমস্ত ভয় উড়িয়ে রাস্তায় নেমে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েও আন্দোলনকারীদের মাওবাদী বলে দাগিয়ে দেন। শেষপর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ায় কয়েকজন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 
আর জি কর মেডিক্যাডল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসকের ‘অভয়া ধর্ষণ-খুন মামলা’ গোটা বিশ্বের জনমানসে প্রবল আলোড়ন ফেলেছে। সরকারি হাসপাতালে কর্মস্থলে এমন পৈশাচিক ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। সে মামলায় রাজ্য পুলিশের ঘৃণ্য একদেশদর্শিতা, তাড়াহুড়ো করে মৃতদেহ দাহ করা, ক্রাইম সিনের তথ্য গোপন করা, প্রমাণ লোপাট করা এবং মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। এরপর তদন্তভার পাওয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধীর গতি এবং কর্মপদ্ধতিগত গাফিলতি জনমানসে যে অভূতপূর্ব ক্ষোভ ও ঝড়ের সৃষ্টি করেছে তা অনস্বীকার্য। রাত দখল থেকে শুরু করে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে রাজ্য কেঁপে উঠেছে। 
পরিবর্তনের ডাক
এই চরম ব্যর্থ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী কেন্দ্রীয় সরকারি এবং রাজ্য সরকারি প্রশাসন আজ আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভায় বাংলার সাধারণ মানুষের আদালতে, জনতার কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। আরএসএস-বিজেপি-তৃণমূলের এই অশুভ, জনবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক আঁতাতের বিরুদ্ধে আজ একমাত্র বিকল্প হিসাবে বাম-গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ জোট রাস্তায় নেমে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই লড়ছে।
সেই অবিসংবাদিত সত্য কথাটি মাথায় রেখেই আগামী নির্বাচনে আপনারা ইভিএম’র বোতামটি সজ্ঞানে টিপবেন। ভুলে যাবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না। মাথায় রাখবেন এই বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হলো একমাত্র শক্তি যারা আপনার দেশের, আপনার রাজ্যের, আপনার স্থানীয় অঞ্চলের, আপনার নিজের এবং সর্বোপরি আপনার পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার কথা ভেবে সঠিক জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক নীতি, বৈজ্ঞানিক কৌশল এবং তার প্রকৃত রূপায়ণ করতে সক্ষম। এদের হাত ধরেই আসবে বাংলার হারানো শিল্প, যুবকদের কর্মসংস্থান, নারীদের সম্মান ও সমাজে স্থায়ী শান্তি। এরাই হলো সেই ঝড়ের খেয়ার অকুতোভয় লাল নাবিক।
 

Comments :0

Login to leave a comment