প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ার হিসাব জানালো নির্বাচন কমিশন। ১৫২ বিধানসভার মধ্যে প্রথম দফায় ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথ ছিল প্রথম দফার ভোটে। তারমধ্যে নির্বাচনের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৩৯ হাজার ৫৪৮ বুথে ভোট গ্রহণ পর্ব সমাপ্ত হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার পর ৪ হাজার ৮২৮টি বুথে রাত পর্যন্ত চলছে ভোট গ্রহণ। শনিবার নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনি শেষে চূড়ান্ত তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটদানের চূড়ান্ত হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০৪ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন। মহিলা ভোটার ১ কোটি ৬৫ লক্ষ চল্লিশ হাগার ৬৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৭০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৪৯ জন।
এসআইআর’র পর নিজের ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ছিল তা প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণের দিনেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সকাল ১১টার মধ্যেই ১৫২টি কেন্দ্রে ৬২ শতাংশের ওপর ভোট দিয়ে দেন ভোটাররা। তারমধ্যে বেশ কিছু বিধানসভা এলাকা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সকাল ১১টার মধ্যেই ভোট পড়ে যায়। বেলা বাড়ার পর ভোটদানের গতি বাড়তে থাকে। ভোট দিতে না পারলে, যদি আবার নাম বাদ যায়, এই আতঙ্ক থেকেই নিজের ভোট দেওয়ার কাজকে এদিন অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছিল প্রথম দফার ভোটাররা। যে কারণে, পরিযায়ী শ্রমিক অধ্যুষিত উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটের আগে হাজারে, হাজারে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে এসেছিলেন।
এদিন ভোটের হারে সম্পূর্ণ তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। তথ্য অনুযায়ী প্রথম দফায় কোচবিহারে ভোট পড়েছে- ৯৬.২০ শতাংশ। ভোট দানের হারে সবচেয়ে এগিয়ে এই জেলা। আলিপুরদুয়ারে ৯৩.২০ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে -৯৪.৭৬ শতাংশ, কালিম্পং-এ প্রথম দফায় ভোটের হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। দার্জিলিঙ জেলায় ৮৮.৯৮ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরে ৯৪.১৬শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৪৪ শতাংশ। ৯৪.৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে মালদহে। মুর্শিদাবাদে ৯৩.৬৭ ভোট পড়েছে। ৯২.৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯২.১৯ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ৯২.২৬ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৯১.৫৯ শতাংশ। প্রথম দফায় ৯২.৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বাঁকুড়ায়, পশ্চিম বর্ধমানে ৯০.৩২ শতাংশ, বীরভূমে ৯৪.৯১ ভোট পড়েছে প্রথম দফার নির্বাচনে। গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের পর ৪৪ হাজার বুথের কোথাও পুনর্নির্বাচনের অভিযোগ আসেনি। ছাপ্পা, বুথ দখল, ভোটের লাইন আটকে রাখার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার কৃতিত্ব অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের। যদিও এসআইআর পর্ব থেকে ভোটার হিসাবে নাম বাদ চলে যাওয়ার আতঙ্কে মানুষ ব্যাপক হারে এবার ভোট দিতে গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
West Bengal Elections
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ালো ৯৩.১৯ শতাংশ
×
Comments :0