দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তির পরীক্ষা সিইউইটি নিয়ে এবার দেখঅ দিল সমস্যা। বেশ কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার জন্য শনিবার পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়।
এনটিএ'র তরফে এক্স পোস্টে জানানো হয়েছে যে, "শনিবার বেশ কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিইউইটি পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়। কারিগরি ব্যবস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা টিসিএস জানিয়েছে যে তথ্য প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছে।’’
এনটিএ’র দাবি, ইতিমধ্যেই সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে, যাতে কোনও পরীক্ষার্থী সমস্যায় না পড়েন তার জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।"
এনটিএ জানায় যে দ্বিতীয় পর্বের সময়সূচি বিকেল ৩:০০টের পরিবর্তে বিকেল ৪:০০টেয় শুরু হয়। পরে এনটিএ জানায়, শনিবার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে পরীক্ষার প্রথম শিফট শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় যে ৩,৭০০ জনেরও বেশি সিইউইটি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, স্নাতক স্তরে ভর্তির এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় পুনরায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের আরও একবার সুযোগ দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সংস্থা এনটিএ বারবার বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করার দাবিও উঠেছে। মেডিক্যাল প্রবেশিকার ‘নিট’-র বেনিয়মের জন্যও কাঠগড়ায় এই এনটিএ।
একটি বিবৃতিতে টিসিএস'র সিইও এবং এমডি কে কৃত্তিবাস জানিয়েছেন যে, "তথ্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রথম পর্বের পরীক্ষা শুরু হতে ২ ঘন্টা দেরি হয়।‘‘
‘এক্স‘-এ বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক এই পরীক্ষা শুরুর ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার কথা জানানোর পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে যোগাযোগের অভাবেরও অভিযোগ তুলেছেন।
একজনের ‘এক্স‘ পোস্টে বলা হয়েছে, "প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সিইউইটি -র ছাত্রছাত্রীদের ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনও সঠিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, কোনও ব্যবস্থা নেই, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। একটি জাতীয় স্তরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থাপনার এমন ত্রুটি গ্রহণযোগ্য নয় ।"
আরেকজন এক্স পোস্টে বলেন, "আজ সকাল ১০:৩০-এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, দিল্লি ১১০০৮১, খসরা নং ২৬৫, গঙ্গা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাশে অবস্থিত ওয়েবইনফোট্রন টেকনোলজিস কেন্দ্রে এখনও পরীক্ষা শুরু হয়নি। কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই অভিভাবকরা সকাল থেকে তাদের সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছেন।"
কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট-আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা সিইউইটি-ইউজি হলো কেন্দ্রীয়, রাজ্য সহ বেশ কয়েকটি নির্বাচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির পরীক্ষা।
এরআগে, নিট'র প্রশ্নপত্র ফাঁস কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের রোষের মুখে পরে এনটিএ।
২৯ মে অর্থাৎ শুক্রবার নিট-র প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিমার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের ভর্ৎসনার মুখে পরে এনটিএ। শুনানি চলাকালীন তিনি বলেন, ইউপিএসসি'র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত এনটিএ'র। পাশাপাশি আদালতের তরফে বারবার জোর দেওয়া হয় যে শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি বেনিয়মের বিষয় এটি নয়, বরঞ্চ বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা সহ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের, যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
পাশাপাশি, এই ঘটনায় রাহুল গান্ধী এক্স পোস্টে বলেন, " নীট , সিবিএসসি, এসএসসি এবং আজ সিইউইটি। চারটি পরীক্ষা, এক কোটির বেশি পরীক্ষার্থী। এই পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটিও সততার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়নি।"
তিনি আরও বলেন," 'বিশ্বগুরু' হওয়ার দাবি করেন, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে একটি পরীক্ষাকেও সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে অক্ষম - মোদীজি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। "
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে চালু হওয়ার পর থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই প্রবেশিকা পরীক্ষাটি বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার পরিচালনাগত সোমবার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দেরিতে প্রবেশ ও পরীক্ষা শুরু এবং কিছু কেন্দ্রে সার্ভার ও লগইন ব্যর্থতার মতো প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে।
এছাড়াও, সিস্টেম-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষা বাতিল সহ ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণের ঘটনাও ঘটেছে।
কিছু ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্রের বিবরণ এবং পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তির কথা জানিয়েছে, যার ফলে তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি।
বারবার এই ধপরণের সমস্যাগুলো ঘটতে থাকায় পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।
২০২৫ সাল থেকে সিইউইটি পরীক্ষাটি কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশব্যাপী এই প্রবেশিকা পরীক্ষাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নত মাননির্ধারণ, কার্যকারিতা এবং লজিস্টিকসের কথা উল্লেখ করে এনটিএ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
Comments :0