দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
গত বছর অনাবৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন পাট চাষিরা। আর এ বছর উল্টো ছবি। এবার জলমগ্ন হয়ে রয়েছে পাট চাষের জমি।
মে মাস জুড়ে নিম্নচাপ ও ঘনঘন কালবৈশাখীর জেরে অকাল বর্ষণে জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ পাট চাষের জমিতে জল জমে রয়েছে। সদর, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, মাল ও ক্রান্তি ব্লকের বহু এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে এখনও এক হাঁটু জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে ফলন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় চাষিরা।
উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের জলপাইগুড়ি জেলা বরাবরই উচ্চ বৃষ্টিপাত প্রবণ এলাকা। তিস্তা, জলঢাকা, করলা, ধরলা সহ একাধিক নদী ও খাল-বিল ঘেরা এই জেলায় পাট চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকলেও অতিরিক্ত বর্ষণ এখন বড় বিপদের কারণ।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রতি বছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি ও সদর ব্লকে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।
সদর ব্লকের চাষি বকুল সরকার বলেন, “পাট চাষে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন উঠবে কিনা সেটাই বুঝতে পারছি না। সার, বীজ, মজুরির খরচ বেড়েছে। এখন জমিতে শুধু জল আর জল।”
কৃষকদের বক্তব্য, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পাট গাছের দ্রুত বৃদ্ধির সময়। কিন্তু দীর্ঘদিন জল জমে থাকায় গাছের গোড়া পচে যাওয়া ও ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজারে গত কয়েক বছরে পাটের দামের ওঠানামা চাষিদের কিছুটা আশাও দেখিয়েছিল।
কেন্দ্রের ঘোষিত কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ২০২৩-২৪ মরশুমে ছিল প্রতি কুইন্টাল ৫,০৫০ টাকা। ২০২৪-২৫ মরশুমে তা বেড়ে হয় ৫,৩৩৫ টাকা। ২০২৫-২৬ মরশুমে আরও বাড়িয়ে ৫,৬৫০ টাকা করা হয়েছে। খোলা বাজারে উন্নত মানের পাটের দাম অনেক সময় ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকাও ছুঁয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা ফের বাড়ছে। প্লাস্টিক বর্জনের প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে ‘সোনালি আঁশ’-এর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু আবহাওয়ার চরম তারতম্য, সঠিক জল নিকাশি ব্যবস্থার অভাব এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি জলপাইগুড়ির পাট চাষিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
Comments :0