People's Democracy Editorial

পুঁজির অবাধ দাপটের সম্ভাবনায় উল্লাস, মোদীর ভাষণে বলল ‘পিপলস ডেমোক্র্যাসি’

জাতীয়

পুঁজির দাপটের সামনে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণের রাজনীতির প্রভাব বাড়াতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। পাঁচ রাজ্যে ফলাফলের পর তাঁর ভাষণ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। 
‘পিপলস ডেমেক্র্যাসি’-র চলতি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে একথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই আমেরিকার আদানির মামলার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।
বলা হয়েছে যে পুঁজির দৌরাত্ম এবং অবাধ মুনাফার দৌড় প্রভাবিত করে বিচারকেও। আমেরিকায় দায়ের জালিয়াতি মামলায় আদানির ছাড়ের বেলায় হয়েছেন তেমনই। 
পাঁচ রাজ্যের ফল ঘোষণার পর ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়ার সুযোগ পেয়েছে বিজেপি। কেরালায় পরাজিত কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট। মোদী বলেছিলেন, ‘‘এই রায় কেবল নির্বাচনী পরিবর্তন নয়, জনতার দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন।’’
মোদীর সেই মন্তব্যকে উদ্ধৃত করা হয়েছে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সাপ্তাহিক মুখপত্রের এই সম্পাদকীয়তে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি আমেরিকার সংবাদমাধ্যমেই ফাঁস হয়ে যায় যে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে সেদেশে দায়ের জালিয়াতির মামলা থেকে ছাড় পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ঘনিষ্ঠ গৌতম আদানি। ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ১৫ হাজার কাজের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মিলেছে ছাড়। আদানিকে আইনি সহায়তা দিয়েছে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রবার্ট জে গিউফ্রা জুনিয়র। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বিচার মন্ত্রকের সদর দপ্তরে শীর্ষ আধিকিরাকিদের সঙ্গে বৈঠক করেন গিউফ্রা। অর্থের বিনিময়ে হয় গোপন বোঝাপড়া। মামলা তুলে নেয় বিচার মন্ত্রক, এসইসি। 
২০২৪’র নভেম্বরে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আমেরিকার বিচার মন্ত্রক এবং শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান এসইসি। বলা হয়, ভারতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আদানি গোষ্ঠীর ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’ আমেরিকার শেয়ার বাজার থেকে মোটা অঙ্কের মূলধন তুলেছে। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছে একাধিক রাজ্যের বিদ্যুৎ পর্ষদের আধিকারিকদের। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে আদানির বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি হয়েছে। ফলে শেয়ারের ভবিষ্যৎ নড়বড়ে। সে কারণেই গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। 
সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়েছে পিপলস ডেমোক্র্যাসির সম্পাদকীয়। 
সম্পাদকীয়তে মনে করানো হয়েছে যে আরএসএস’র প্রাক্তন প্রধান এমএস গোলওয়ালকর কমিউনিস্টদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে যে কমিউনিস্টরা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বুঝতে পারে। পুঁজির অবাধ লুণ্ঠন এবং মুনাফার দাপটের বিপক্ষে শ্রমজীবী অংশকে সচেতন করে রাস্তায় নামতে পারে। সে কারণেই কমিউনিস্টদের মধ্যে বিপদ দেখে আরএসএস। 
সম্পাদকীয়তে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে কার্ল মার্কস তাঁর অনবদ্য রচনা ‘পুঁজি’-তে এই চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। পুঁজির লুন্ঠনের এবং সর্বগ্রাসী চরিত্রকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। লগ্নি পুঁজির দাপটের সময় সেই চরিত্র আরও স্পষ্ট। কমিউনিস্টরা তাই লুটের চরিত্র বুঝে ফেলতে সক্ষম। বলা হয়েছে যে মোদী যতই উল্লাস করুন, মার্কসবাদের অমোঘ বিশ্লেষণকে হাতিয়ার করে পুঁজির দাপটকে প্রতিরোধের প্রয়াস জারিই থাকবে।

Comments :0

Login to leave a comment