Minakshi Mukherjee In Cooch Behar

ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে পারে জনতার ঐক্য, কোচবিহারে মীনাক্ষী

রাজ্য জেলা

জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার
দেশের ক্ষমতায় বসেই বিজেপি আরএসএসের নির্দেশ মত ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের চরিত্রকে বদলে দিতে একের পর এক পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করছে। গোটা দেশ জুড়েই চলছে হিন্দুত্বের নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চরম আক্রমণ। শুক্রবার কোচবিহার শহর সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটি ও পরিবহণ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শহরের বীরেন্দ্র চন্দ্র দে সরকার ভবনে ‘‘বর্তমান সময়ে চরম দক্ষিণপন্থার আক্রমণ এবং পৌর এলাকার পার্টির করনীয় কাজ’’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই কথাগুলি বলেন, সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জী।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জী বলেন, ‘‘এখন দেশ আর আমাদের রাজ্যে নব্য ফ্যাসিবাদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আক্রমনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ছাত্র- যুব- মহিলা -কৃষক এবং শ্রমজীবি মানুষ। এই ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে পারে জনতার ঐক্য। তিনি মনে করয়ে দেন কোন ফ্যাসিবাদী শক্তিই চিরকাল অজেয় থাকে নি। জোটবদ্ধ মানুষের লড়াই-ই আমাদের দেশে অথবা রাজ্যেও চরম দক্ষিণপন্থাকে পরাস্ত করে ফের গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করতে পারবে। এটাই চরম সত্য। তিনি আরও বলেন, চরম দক্ষিণপন্থাকে রুখতে প্রতিটি এলাকায় লড়াই সংগ্রামকে হাতিয়ার করতে হবে। আর তাতেই অবস্থার বদল ঘটানো সম্ভব। দক্ষিণপন্থীদের একমাত্র লক্ষ্য পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করা। আর আমরা যারা মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণপন্থীদের রুখে দিতে চাই তাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের হাতে অধিকারকে পৌঁছে দেওয়া। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আগামী পৌর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে পর্যদুস্তু করতে আরও বেশি মানুষকে লড়াইয়ের ময়দানে নিয়ে আসার নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে যেতে হবে আত্মবিশ্বাসের সাথে। মনে রাখতে হবে নব্য দক্ষিণপন্থীরা নয় শেষ পর্যন্ত জিতবে ঐক্যবদ্ধ মানুষের লড়াই।
মীনাক্ষী মুখার্জী আরও বলেন, আজকের নব্য দক্ষিণপন্থীরা আমাদের দেশে এবং রাজ্যে পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামোটাকে ভাঙতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাজ্য বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর যে কটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার একটিও সাধারণের স্বার্থে নয়। বুলডেজার চলেছে গরীব মানুষের ওপর, হকার উচ্ছেদ হচ্ছে। একের পর এক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা যেমন সত্যি তেমনি নব্য দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে দিল্লী থেকে কোচবিহারে জোরদার লড়াই হয়েছে। দিল্লীর দক্ষিণপন্থীদের বাধ্য করেছে শিক্ষামন্ত্রীকে মন্ত্রীসভা থেকে ফিরিয়ে নিতে। মানুষের তীব্র লড়াইয়ের কাছে নব্য ফ্যাসিবাদকে মাথা নত করতে হয়েছে। আলোচনা সভায় মীনাক্ষী মুখার্জী নব্য দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইকে জোরদার করার প্রসঙ্গে বলেন, মনে রাখতে হবে ওরা যুক্তির ধার ধারে না। ওরা যেনতেন প্রকারে হিন্দুত্বকে প্রতিষ্ঠা করা আর পুঁজিপতিদের পুঁজির পাহাড় বাড়াতে সাহায্য করা। দেশের নব্য দক্ষিণপন্থীদের কোনঠাসা করতে লড়াই শুরু হয়েছে। সেই লড়াইকে আরও জোরদার করার কাজ চালাতে হবে। লক্ষ্য একটাই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।
এদিনের আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানন্দ সাহা। সভাপতিত্ব করেন, পার্থ প্রতিম সেনগুপ্ত। ছিলেন অমিত দত্ত ও অন্যান্য নেতৃত্ব।

Comments :0

Login to leave a comment