15 Maoists killed

ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি অভিযানে গুলিতে হত ১৫ মাওবাদী

জাতীয়

বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলায় সারান্দা জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৫ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের তালিকায় ১ কোটি টাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত শীর্ষ মাওবাদী নেতা পতিরাম মাঝি ওরফে ‘অনলদা’-ও রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক।   
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশ সারান্দা এলাকায় মাওবাদীরা রয়েছ বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত  কোবরা, ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার এবং জেলা পুলিশের একটি যৌথ দল গঠন করা হয়। এদিন খুব সকালে নিরাপত্তা বাহিনী নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। প্রশাসনের দাবি যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাওবাদীরা গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয় এবং তীব্র গুলি বিনিময় শুরু হয়। চলে গুলির লড়াই। ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায় মাওবাদীরা। ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ে। এলাকাটি ঘিরে ফেলা বাহিনী। তল্লাশি অভিযান চলছে।
মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষ নেতা অনলদা ওরফে পাতিরাম মাঝি সহ আরও ১৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এই খবরের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইজি মাইকেল রাজ বলেন,‘‘ ওই শীর্ষ নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। সংঘর্ষে নিহত আরও কয়েকজনের মাওবাদীর মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল৷’’ তিনি বলেন,‘‘এদিন সারান্ডা জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযান শুরু হয়। পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনি দাবি করে বলেন,‘ বাহিনীকে দেখে মাওবাদীরা গুলি চালায়৷ পাল্টা জবাবে বেশ কয়েকজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়।’’
ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ ওডিশার কন্ধমলে মাওবাদীদের আরেক শীর্ষ নেতা গণেশ উকির মৃত্যু হয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। তার দিন কয়েক আগেই নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে জানায়,  ওই বছরে ৩৩৫ জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছে ২১৬৭ জন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্কে নিরাপত্তা বাহিনী ৩১ জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়। মে মাসে ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি অবুঝমাঢ়ে নিরাপত্তা বাহিনী শীর্ষ নেতা নম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু সহ ২৮ জন মাওবাদীকে হত্যা করে। 
‘মাওবাদী মুক্ত’ ভারত গড়ার লক্ষ্যে অমিত শাহের নির্দেশে পরপর মাওবাদী নিকেশ চলছে রাজ্যে রাজ্যে। বিভিন্ন অংশ মাওবাদীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও কেন্দ্র সম্মত হয়নি। মাওবাদী দমনের নামে আদিবাসী নিবিড় এলাকাগুলিতে নিত্যদিন রক্ত ঝরছে। অভিযোগ, বহু নিরীহ গ্রামবাসীদের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নির্দোষ অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment