মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা মন্দির ও কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা নিয়ে বড়সড় নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমী এবং জুম্মার নামাজ একই দিনে পড়ায় যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তার সমাধানে সুপ্রিম কোর্ট উভয় পক্ষকেই নির্দিষ্ট সময়ে উপাসনার অনুমতি দিয়েছে।
শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমীর দিন হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা যাতে সুষ্ঠুভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, তার জন্য আদালত একটি সময়সূচী ঠিক করে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বসন্ত পঞ্চমীর বিশেষ পুজো ও প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছ। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত এই চত্বরে জুম্মার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নামাজের জন্য কতজন উপস্থিত থাকবেন, সেই সংখ্যা আগেভাগেই জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
'হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস'-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল যেহেতু এ বছর বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবার পড়েছে, তাই ওই দিন হিন্দু পক্ষকে যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে সারাদিন পুজোর একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, ২০০৩ সালের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র নির্দেশে বসন্ত পঞ্চমী এবং শুক্রবার একই দিনে পড়লে কী নিয়ম হবে, তা স্পষ্ট করা নেই।
২০০৩ সালের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা ভোজশালায় পুজোর অধিকার পান। প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত মুসলিমরা নামাজ পড়ার সুযোগ পান। সাধারণত বসন্ত পঞ্চমীতে হিন্দুরা বিশেষ পুজোর অধিকার পান, কিন্তু এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ধার জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে যাতে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে, তার জন্য চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
Maharashtra Bhooj shala
ভোজশালায় বসন্ত পঞ্চমী ও জুম্মার নামাজ: হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষকেই প্রার্থনার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট
×
Comments :0