কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পথে ফিরহাদ হাকিম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুমতিতেই তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ জানান, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম মমতা ব্যানার্জির কাছে জানিয়েছিলেন যে কর্পোরেশনে কাজ করা যাচ্ছে না, তাই তিনি পদত্যাগ করতে চান। কুনাল ঘোষ বলেন, প্রথমে মমতা বারণ করেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ মমতাকে বলেছেন তিনি সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি চান। এরপরই মমতা ব্যানার্জি তার এই পদক্ষেপে সম্মতি জানিয়েছেন।"
মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছেন যে, আমি এখনও পর্যন্ত ইস্তফা দেওয়ার বিষয় কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেই নি বা দেইনি। যদি এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেই তাহলে সাংবাদিক সম্মেলন করেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানাবো। এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে পদত্যাগ আমি করবো না।
রাজ্যের পট পরিবর্তনের পর থেকেই ডামাডোল চলছিল কলকাতা কর্পোরেশনে। সংঘাত চরমে ওঠে মে মাসের মাসিক অধিবেশন ঘিরে। অধিবেশন কক্ষ খোলা না পেয়ে প্রতিবাদে কাউন্সিলর ক্লাবেই অধিবেশন করেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। কলকাতা কর্পোরেশনের পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে সঙ্গে মেয়র ও মেয়র পরিষদ সদস্যদের সংঘাত শুরু হয়। প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতার অভিযোগ করছিল তৃণমূলের পুর বোর্ড।
সাংগঠনিকভাবেও তৃণমূল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিল কর্পোরেশনের অন্ধরেই। বরো চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলর পদত্যাগ দিতে থাকেন অনেকেই। কলকাতা কর্পোরেশনের ৯ নম্বর বরো চেয়ারম্যান পথ ছাড়েন দেবলীনা বিশ্বাস। গত ১৯ মে তিনি মালা রায়কে তার পদত্যাগের চিঠি পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করেন বরো চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও কলকাতা কর্পোরেশনের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর পদে ছাড়েন কলকাতা কর্পোরেশনের জল নিকাশি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পরিষদ তারক সিং। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা কর্পোরেশন ভোটের ফলের পর নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। কলকাতা কর্পোরেশনের ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ড এর মধ্যে ১০৩ টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। মাত্র ৪১টি ওয়ার্ডে জয়ের হয়েছে তৃণমূলের। কলকাতা কর্পোরেশনে মেয়রের পদত্যাগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যের সমস্ত পৌরসভা গুলি কী আদেও ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল। আলোচনা চলছে তা নিয়েও।
Comments :0