বিশ্বজিৎ রায়: গাড়ুলিয়া
যাদের নূন্যতম গড়ে তোলার চেষ্টা নেই তারা বুলডোজার চালাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী মনোভাবে এই দেশ চলছে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।
শুক্রবার গাড়ুলিয়ায় জনসভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
চক্রবর্তী বলেন, ব্রিটিশরা ভরসা করত আরএসএস এবং মুসলিম লিগ দুই শক্তিকেই। স্বাধীনতা আন্দোলনে এদের কোনও ভুমিকা নেই। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে বিকৃত করছে আরএসএস-র রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি।
এদিন সিপিআই(এম) গাড়ুলিয়া এরিয়া কমিটির উদ্যোগে লেনিননগর এলাকায় প্রয়াত পার্টি নেতা কমরেড সুবোধ দে’র স্মরণে এই জনসভা হয়। সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) নেতা কালিপদ হালদার।
চক্রবর্তী বলেন, আরএসএস’র মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করছে বিজেপি। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এদের কোনও ভুমিকা নেই। আমরা দেখেছি যে বাংলার ঐতিহ্যকে ভুলুন্ঠিত করেছে তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর গোটা দলটাই উঠে গেছে। এরা মনে করে রাজনীতি মানে ক্ষমতা। আমরা বামপন্থীরা মনে করি রাজনীতি মানে মানুষ। নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে রাজনীতি। বাম মানে একটা সৃষ্টি,একটা গড়ে তোলা। বামপন্থী রাজনীতির ধারা হচ্ছে এগিয়ে চলার ধারা, সৃষ্টির ধারা। এরা দলবদলুর রাজনীতি করে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। সেটা যে পছন্দ করছেন না, কিছুদিন আগেই এরাজ্যের মানুষ তা বুঝিয়ে দিয়ে
চক্রবর্তী বলেন, বামফ্রন্টের সময়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ছিল। গত পনেরো বছরে, তৃণমূল সরকারের মেয়াদে, সেটা ধ্বংস হয়েছে। শিক্ষা ধ্বংস হয়েছে। কাজের বাজার ধ্বংস হয়েছে। লুট ও তোলাবাজি চলেছে। কাজের জন্য এখন ছেলেমেয়েদের বাইরে যেতে হচ্ছে। বাইরে গেলে শুনতে হয়েছে ‘আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী চোর‘। সেই চোরদের একাংশ এখন দল বদলে নবান্নে বসে আছে। চক্রবর্তী বলেন, আমরা সৃষ্টির লড়াই করি। ওরা ধ্বংসের লড়াই করে। এরা সমাজটাকে ভাঙতে চাইছে। বিভাজনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যাদের নূন্যতম গড়ে তোলার চেষ্টা নেই, গড়ে তোলার চেষ্টা নেই। তারা বুলডোজার চালাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী মনোভাবে এই দেশ চলছে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, দেশ ও রাজ্যে জুমলার সরকার চলছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ এখানে এক সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এটা একটা মিনি ভারতবর্ষ। এরা ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। মানুষকে নিয়ে এর মোকাবেলা করতে হবে।
Comments :0