TMC

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন অরূপ বিশ্বাসের

রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের আবহে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় অবিলম্বে বিধিনিষেধ আরোপের আবেদন জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের উদ্দেশে লেখা দু'পাতার ওই চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস দলীয় অ্যাকাউন্টগুলিতে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বৈধ কর্তৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই চিঠিটির কপি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কিংবা অরূপ বিশ্বাসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
১২ জুন তারিখের ওই চিঠিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করেছেন, বিরোধ মিটে না যাওয়া পর্যন্ত কোনও ডেবিট লেনদেন বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনার নির্দেশিকায় পরিবর্তন না করতে। তার আশঙ্কা, দলের তহবিল অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যেতে পারে বা অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ভাঙন দেখা দিয়েছে। রীতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পৃথক শিবির গঠন করেন। পরে বিধানসভার স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়ে তারা বৃহত্তম বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ঋতব্রত ব্যানার্জি বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেন।
সংসদেও এই ভাঙনের প্রভাব পড়ে। সুদীপ ব্যানার্জি ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-তে যোগদান করেছেন। তাদের দাবি, লোকসভার তৃণমূল সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমর্থন তাদের সঙ্গে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দলীয় বৈধতা, দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট।
এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক কানাইলাল আগরওয়াল বলেছেন, ‘দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের অধিকার রয়েছে ব্যাঙ্ককে অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানোর, যদি তার মনে হয় দলীয় তহবিল অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।’
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি ও পদাধিকারী বলে দাবি করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই কারণে দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগে থেকে স্বাক্ষরিত চেকের অপব্যবহার বা অননুমোদিতভাবে ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিল এবং আগামী দিনে দলীয় নিয়ন্ত্রণের লড়াই আরও জটিল আকার নিতে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment