অবশেষে পিছু হঠল প্রশাসন। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নদী থেকে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)”র লাগাতার আন্দোলন ও ডেপুটেশনের জেরে অবশেষে টনক নড়ল প্রশাসনের। মাল ব্লকের নদীগুলি থেকে সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিতে বাধ্য হল প্রশাসন। সিপিআই(এম)’র এই জোরালো লড়াইয়ের সাফল্যের জেরে দীর্ঘ এক মাস পর মুখে হাসি ফুটল মাল মহকুমার কয়েক হাজার নদী-শ্রমিক ও পরিবহন কর্মীর। মাল ব্লকের চার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী— মাল, চেল, ঘিস এবং লিস থেকে সরকারি নিয়মের বেড়াজালে দীর্ঘদিন ধরে বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে কার্যত হাঁড়িতে টান পড়েছিল হাজার হাজার শ্রমজীবী পরিবারের। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ও সরকারি নিয়ম মেনে অবিলম্বে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার দাবিতে লড়াকু আন্দোলন গড়ে তোলে সিপিআই(এম) মাল এরিয়া কমিটি।
সিপিআই(এম) মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘’আইন মেনে বালি পাথর তোলা চালু হলে একদিকে যেমন প্রান্তিক নদী-শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, তেমনই ডাম্পার, ট্র্যাক্টর ও ডালাবডি ট্রাকের মতো পরিবহন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে.”
নদী সচল হলেও বালি-পাথরের কালোবাজারি ও মাফিয়া রাজ রুখতে প্রশাসনকে এবার কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিআইটিইউ তথা বামপন্থী সংগঠনগুলি। প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই ওভারলোডিং গাড়ি বরদাস্ত করা হবে না। নদীগর্ভে লরি বা ডাম্পার নামলেও বালি ও পাথর তোলার জন্য শুধুমাত্র কোদাল ও বেলচা ব্যবহার করতে হবে— কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর চেল, লিস ও ঘিস নদীতে বর্ষার আগে ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ করার জন্য আর্থমুভার ব্যবহারের ছাড় রয়েছে।
মাল মহকুমার নদী সংলগ্ন এলাকার শ্রমিক ফতেবুল ইসলাম, মহঃ মোতাললেব জাভেদ আলিরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, "এক মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের রুজিরুটিতে টান পড়েছিল। দিনমজুরির টাকায় আমাদের সংসার চলে। আমরা চাই সরকারি নির্দেশ মেনে এভাবেই কাজ চালু থাকুক।" একই সুর শোনা গেল ট্র্যাক্টর মালিক শ্যামল রায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, "সামনে বর্ষায় তিন মাস নদী পুরোপুরি বন্ধ থাকে। তার আগে বৈধ রয়্যালটি দিয়ে কাজ চললে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত নির্মাণকাজ গতি পাবে।"
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলনের কাজ করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত চালুর পর খুশির হাওয়া রাজমিস্ত্রি, নির্মাণশ্রমিক, লরিচালক ও পাথর ভাঙার কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে। উল্লেখ্য, মাল মহকুমার চারটি নদীতে প্রায় ২০০০ শ্রমিক কাজ করে জীবনধারণ করেন।
এদিকে মাল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বামেদের এই লড়াকু আন্দোলনকে কুর্নিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দাবি উঠেছে, এতদিন যেভাবে তৃণমূল জমানার প্রশ্রয়ে ভুয়ো রয়্যালটি তৈরি করে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে একাংশ কালোবাজারি ব্যবসা চালাচ্ছিল, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নতুন করে বালি মাফিয়ারা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ যাতে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়, সেই দাবিও তুলেছেন পরিবহন কর্মীরা।
Mal Block
সিপিআই(এম)”র আন্দোলনে টনক নড়ল প্রশাসনের
×
Comments :0