নতুন মামলায় তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের বিচার শুরু হলো শুক্রবার। ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে সেই ডিম-বাহিনীকেও সক্রিয় হতে দেখা গেল। প্রশ্ন উঠল, অভয়া কাণ্ডে তথ্য প্রমাণ লোপাটে জড়িত ‘মাথারা’ শাস্তি পাবে কিনা।
অভয়া কাণ্ডে পানিহাটি শ্মশানে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ তাড়াহুড়ো করে দাহ করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে নতুন করে। সেই তদন্তেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব ব্যানার্জিকে। আর জি করের ঘটনার দুই বছর পার হয়েছে। গত ৯ আগস্ট, ‘অভয়া দেবনাথ চ্যারিটিবল ট্রাস্ট’-র পক্ষ থেকে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিলোত্তমার শবদেহ যে ঘাটে দাহ করা হয়েছিল সেখানে যারা যারা জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের নামে ফের তদন্ত শুরু করতে। তারপরেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখার্জি এবং সোমনাথ-দের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকদিন তারা তিনজনেই এলাকা ছাড়া ছিল। এরপরই গতকাল ওড়িশা থেকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে খড়দহ থানার পুলিশ। কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সঞ্জীব মুখার্জিকে।
শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয় তাদের। আদালত চত্বর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। উত্তপ্ত জনতা নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখার্জিকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে। কাদা এবং ডিম ছোঁড়া হয় তাদের।
শুধু আর জি করের ঘটনা নয় নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে লটারি প্রতারণার মামলা রুজু করেছে খড়দহ থানা।
আর জি কর কাণ্ডে ফের তদন্তের নির্দেশ ঘিরে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আর জি করে নিহত ছাত্রীর দেহ দাহ করার ঘটনায় নির্মল ঘোষ একা নন, শীর্ষ স্তরের যোগাযোগ ছিল।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সেলিমের প্রতিক্রিয়া, সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র তদন্ত করে দেখতে হবে। আমরা তো চাইছি সিবিআই পূর্ণ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। সবাইকে তদন্তের আওতায় হোক। ২০২৪’র ১৪ আগস্টের তারিখ রাতে যারা আর জি করে প্রতিবাদীদের ওপর আক্রমণ করলো ভাঙচুর করল, বাথরুম ভাঙার নাম করে যারা ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক নমুনা লোপাট করার চেষ্টা করলো তাদের ধরা হোক।
সেলিম বলেন, তৃণমূল সরকার ঘটনার দিনই বিনা ময়নাতদন্তে দেহ দাহ করতে চেয়েছিল। শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশে ময়না তদন্ত হয়। বাড়ির লোকেদের নানাভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল থানায়। তৃণমূল সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলে আর জি করের বাইরে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হতো। সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা সন্দেহ করেই সেদিন ছাত্রযুবরা শবদেহবাহী গাড়ি আটকাচ্ছিল হাসপাতালে। পানিহাটি শ্মশানে পুলিশ লাঠি দিয়ে সবাইকে সরিয়ে দিয়েছিল যাতে সাক্ষী না থাকে। ফলে এটা একজনের কাজ না। যুক্ত সবাইকে আনতে হবে। কার নির্দেশ ছিল? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া তো এত বড় মাপের কার্যকলাপ সম্ভব নয়।
rg kar case arrestd nirmal ghosh
মাথা অবধি পৌঁছাবে কী তদন্ত? নির্মল ঘোষকে ঘিরে ডিম বিক্ষোভে উঠলো প্রশ্ন
×
Comments :0