পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন পর্ব চলছে। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে। কেউ দশ দফা, কেউ পঞ্চাশ দফা অঙ্গীকার করছে। মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, যুবকদের অ্যাকাউন্টে কে কত টাকা দেবে রীতিমতো তার প্রতিযোগিতা চলছে। অলীক, অবাস্তব, অসম্ভব সব প্রতিশ্রুতি দমকা হাওয়ার মতো ছুটছে। সাধারণ মাথা গুলিয়ে যাবার অবস্থা। অথচ আসল কথাগুলো বামপন্থীরা ছাড়া ঘুণাক্ষরে কেউ উচ্চারণ করছে না। সকলেই টাকা বিলোবার কথা বলছে। টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে।
ভিক্ষে দিয়ে যেমন সমাজে ভিখারিত্বের অবসান ঘটানো যায় না তেমনি মাসে মাসে মানুষকে কিছু টাকা দিয়ে তাদের দারিদ্র বা অভাব মোচন করা যায় না। আপৎকালীন সময়ে ভিক্ষে বলুন, অনুদান বলুন, ভাতা বলুন অবশ্যই দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এটা কোনও সরকারের সাফল্য বা কৃতিত্ব নয়। বরং ব্যর্থতার উদাহরণ। মানুষ লেখা-পড়া শিখে, যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হবে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হবে। চাকরি করবে, পেশাজীবী হবে, ব্যবসা করবে। সরকারের কাজ তার পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা গডে তোলা। তা না করে মানুষকে বেকার, কর্মহীন রেখে ভাতা নির্ভর করে তোলা শুধু অপরাধ নয় একটা দেশকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।
রাজ্যের শাসক কিংবা কেন্দ্রের শাসক তাদের পাহাড় প্রমাণ ব্যর্থতা আড়াল করতে নগদ টাকা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে চাইছে। নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেই দল বা প্রার্থীকে বলতে হবে ১০০ দিনের কাজ কেন গুরুত্ব পাচ্ছে না। কেন গরিব মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা হবে না। কেন মানুষকে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার হাড়িকাঠে গলা দিতে হবে। কেন সরকারি স্কুল-কলেজে পরিকাঠামো উন্নত হবে না। কেন পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ হবে না। কেন শিক্ষা খাতে ব্যয় কমিয়ে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে, কেন বেসরকরি স্কুলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করতে বাধ্য হবেন বাবা-মায়েরা। কেন শিক্ষান্তে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে এবং তীর্থের কাজের মতো অপেক্ষা করতে হবে। কেন মিলবে না যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ। কেন যৎসামান্য মজুরিতে করতে হবে অস্থায়ী কাজ। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন সরকারের ভূমিকা থাকবে না। কেন কৃষক তার ফসলের দাম পাবে না।
কৃষক যদি ফসলের ন্যায্য দাম পায় তাহলে তাদের ভাতা প্রয়োজন হয় না। বেকার যদি কাজ পায় বেকার ভাতার প্রয়োজন হয় না। সরকার যদি উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাহলে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও দুশ্চিন্তা অনেক কমে যায়। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ঘোষণা করতে হবে সাধারণ মানুষের এই জরুরি প্রয়োজনগুলি কিভাবে পূরণ করবে। মোদীর মতো বছরে দু’কোটি চাকরির ভাঁওতা নয় বা দিদির মতো সব কাজ করে দিয়েছি বলে প্রলাপ বকা নয়। নির্দিষ্টভাবে ও স্পষ্টভাবে বলতে কীভাবে কোন পথে সমাজে ক্রমবর্ধমান দুর্দশা দূর করবে। তা না হলে ভোট চাইবার অধিকারই থাকে না।
Editorial
ভাঁওতা থেকে সাবধান
×
Comments :0