post editorial

এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি

সম্পাদকীয় বিভাগ

অলকেশ দাস 


দেশভাগ, বাংলা ভাগ। অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাড়ি দিতে হয়েছে মানুষকে। এক দেশ থেকে আর এক দেশে। ভিটে ছেড়ে নতুন মাটির খোঁজে। বন্যার কুটোর মতো দলে দলে এসে ভিড় করেছে ফাঁকা জমিতে, রাস্তায়, স্টেশনে, গাছতলায়। স্টেশনে মানে রেলস্টেশনে। অনেকটা উঁচু জায়গা। বর্ষার জল জমে না। তখন থেকে বাড়িতে তৈরি ধূপকাঠি, কাগজের ঠোঙা, আচার,ভাজা পাঁপড় ইত্যাদি। আর সেইগুলো নিয়েই পেট চালানোর তাগিদে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করা। ঝালমুড়ির ট্রেন যাত্রার শুরুও তখন থেকে। লক্ষ্মীর পাঁচালি, পঞ্জিকা,গোপাল ভাঁড়ের রস চুঁইতে থাকা গল্পের বই, বর্ণপরিচয়, দাদের মলম কিংবা বিষহরি সবই জনপ্রিয় হওয়া রেল হকারদের হাত থেকে। পণ্য বিক্রি করার বাক্‌পটুতা, নিত্য-যাত্রীদের সঙ্গে তৈরি হয়ে যাওয়া বিশ্বাসযোগ্যতা এদের সঙ্গে তৈরি করে এক নিবিড় সম্পর্ক। দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে জন্ম নেওয়া রেল হকারি বাঙালির এক নষ্টালজিয়া। এই সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল চর্চা ব্যতীত রেল হকার নয়।
সে'সময় রেলের যাত্রী কম। যাত্রীদের পকেটের রেস্তের, ট্যাঁকের জোরও কম। রেল হকারদের তখন আবিষ্কার করতে হচ্ছে যাত্রীদের পছন্দ, প্রয়োজনটা কি। আর সরবরাহ করতে হচ্ছে সেই জিনিসগুলো। এইভাবেই বেড়েছে বিক্রিবাটা। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে। বাড়ে রেল হকারদের পশরা। তার উপর নজর পড়ে গেল কর্পোরেট পুঁজির। মহাধনীদের। কে না জানে এই মহাধনীরাই নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি নীতিকে। 
রেলকে আদানি, আম্বানিদের মুনাফার মৃগয়াক্ষেত্র বানানোর জন্যই মোদী ২০১৪-তে ক্ষমতায় এসেই বানায় বিবেক দত্তরায় কমিটি। এই কমিটিকে দিয়ে সুপারিশ করানো হয় যে রেল পরিষেবার বেসরকারিকরণ হবে, রেল স্টেশন চুক্তিতে ব্যক্তিগত বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে।  একে একে এইসব শর্তই পূরণ করা হচ্ছে। বলি দেওয়া হচ্ছে রেল হকারদের। 
বাজারে এমন এক মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যেন রেলবোর্ড সব কিছু করছে। কিন্তু এই রেলবোর্ড গঠন করে রেল মন্ত্রী, রেল মন্ত্রক। এর মাথায় থাকেন রেল মন্ত্রী। সুতরাং রেল বোর্ডের নীতি আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি। কেন্দ্রীয় সরকার বিজেপি দলের নেতৃত্বে  পরিচালিত। সেই বিজেপি এবার রাজ্য সরকার পরিচালনার নেতৃত্বে এসেছে। ৪ মে ভোট গণনার দিন যখন ফলাফল স্পষ্ট হচ্ছে বিজেপি’র পক্ষে, তখন থেকেই রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের নোটিস সাঁটার ধুম পড়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চলছে। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রেল হকারদের। রুটি-রুজি,পেশা রক্ষার লড়াই।
রেল কর্তৃপক্ষ হকারমুক্ত রেল স্টেশন চাইছে। তাদের যুক্তিগুলো এ'রকম:
১. নিরাপত্তা: রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যে  যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রেল হকার উচ্ছেদ প্রয়োজন। অথচ ভোরবেলায় কিংবা রাতে ফাঁকা স্টেশনে বা কম্পার্টমেন্টে যাত্রীরা রেল পুলিশের চেয়ে রেল হকারকেই নিরাপদ মনে করে। রেল পুলিশের নয়। রেল কর্তৃপক্ষ বলতে চায় রেল হকারেরা  নাকি মাদক খাইয়ে রেল যাত্রীদের সর্বস্বান্ত করে। অথচ ঘটনা ঠিক উল্টো। আরপিএফ বা জিআরপি অফিসের বাইরে এই ধরনের অপরাধীদের যে ছবি সাঁটানো থাকে তাদের মধ্যে একজনও রেল হকার নেই। বরং এদের অনেককেই রেল পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে রেল হকারেরা-এমন উদাহরণ প্রচুর।  
২.আগুন: প্লাটফর্মে যেখানেই আগুন লাগুক না কেন তার দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে রেল হকারদের গায়ে। এখন স্টেশনে উনুন জ্বালানো নিষেধ করা হয়েছে। গনগনে আগুন নিয়ে ট্রেনের পেন্ট্রি কার ছুটতে পারে, স্টেশনে উনুন রাখায় দোষ কেন? রেলস্টেশনের উনুন থেকে আজ অবধি কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। বরং যাত্রীরা টাটকা গরম খাবার পেয়েছে। 
৩. খাবারের গুণগতমান: এর সবচেয়ে বড় শংসাপত্র প্রদানকারী যাত্রীরা। রেল হকারের খাবার পছন্দ করে বলেই তারা রেল হকারদের কাছে আবার আসে। ট্রেনের মধ্যে বা প্লাটফর্মে সস্তায় এবং ভালো খাবার রেল হকারেরাই সরবরাহ করে। চারটে লুচি বা পুরি, সঙ্গে তরকারি, পেঁয়াজ,শশা, কাসুন্দি, টম্যােটো সস। কুড়ি টাকা। এখনো ৫ টাকার ছোট চা টিকে আছে রেলওয়ে স্টেশনে। স্টেশনে যে রেল অনুমোদিত দোকান আছে তাদের পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করার কি ব্যবস্থা আছে? স্টেশনের বাইরে যে দোকানগুলোতে পুরি,কচুরি, সিঙারা ইত্যাদি বিক্রি হয় সেখানে সরকার খাদ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখে? রেলের এই— যত দোষ নন্দ ঘোষের নীতি আসলে রেল হকারদের গলা টিপে রেলের খাবার ব্যবসায় ব্যান্ডেড খাবার কোম্পানিদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য। 
৪. আবর্জনা: রেল হকারদের জন্য নাকি স্টেশনে আবর্জনা জমছে ! রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। রেল কর্তৃপক্ষ স্টেশনগুলিতে যে ঝাঁ চকচকে দোকানগুলিকে অনুমোদন দিয়েছে তাদের খাবারের প্যাকেটগুলি, মোড়কগুলি আবর্জনা হিসাবে জমছে না? রেল যাত্রীদের জন্যেই পরিষেবা। বাইরের লোকেদের জন্য নয়। তাহলে কি রেল যাত্রীদের জন্য খাবার, জলের ইত্যাদি ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে চাইছে রেল? ধূর্ত নেকড়ে ও মেষশাবকের তৃষ্ণা মেটানোর গল্পের মতো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অজুহাত ।
৫.সৌন্দর্যকরণ: রেল হকারদের স্টল সৌন্দর্য বিরোধী? রেল হকারেরা তো সুন্দর থাকতেই চায়। একই ধরনের ছোট ছোট স্টল করতে চায়। কিন্তু তার বাধা তো রেল কর্তৃপক্ষ। তারা তো রেল হকারদের দোকানে কোনও পরিবর্তন করার বিরোধী। সঙ্গে সঙ্গে হুমকি। তাদের পক্ষ থেকে কোনও বিকল্প প্রস্তাবও নেই। 
৬. বেআইনি: ১৯৮৯ সালের আগে রেলের স্টল বা রেলের হকারি আইন ছিল। যবে থেকে কর্পোরেটের হাঙর দৃষ্টি রেলের হকার স্টলের ওপর পড়ল তবে থেকে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ অ্যাক্ট ১৯৮৯ চালু হো। তার ১৪৪, ১৪৫ এবং ১৪৭ ধারায় বলা হলো রেল হকারি বেআইনি। আইনি বা বেআইনির সংজ্ঞা দিয়ে নয় দেখতে হবে মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে। জীবন রক্ষার জন্য পেশার অধিকার একজন সাধারণ নাগরিকের চিরায়ত। উদ্বাস্তুদের অধিকার নিয়ে এক সময় প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তাদের বেঘর, বেনাগরিক করার প্রয়াস দীর্ঘ সময়ের। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অন্যের জমি জবর দখলের। তারপর বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকে যে যেখানে আছে (ইন সি টু) সেইখানেই তার জমির স্বত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। যা এক সময় ছিল বেআইনি মানবিক কারণেই প্রায় ৩ দশক পর তা আইনি হয়। আইনের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্যই আইন। দীর্ঘদিন ধরে যারা রেল যাত্রীদের পরিষেবা, নিরাপত্তা দিল, চাহিদা পূরণ করল কেন তাদের  পেশার উপর আক্রমণ হবে? প্রথম ইউ পি এ সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের তদানীন্তন নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে বাসুদেব আচারিয়ার সাহায্যে ৪৫ জন লোকসভার সাংসদকে নিয়ে রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে সভা করা হয় তার কক্ষে। রেল হকারদের লাইসেন্সের দাবি তিনি মেনেও নেন। কিন্তু তা কার্যকর করার আগেই রেল মন্ত্রীর বদল হয়। পরপর ৩ জন এই রাজ্যের রেল মন্ত্রী হলেও রেল হকারদের ভাগ্যে আর লাইসেন্স জোটেনি।
৭. উন্নয়ন: রেলের হকারেরা নাকি উন্নয়নের প্রতিবন্ধক ! একেবারে ভুল কথা। রেল হকারেরা রেলের উন্নয়ন যা যাত্রী সাধারণের পরিষেবা, নিরাপত্তা, সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত তার সম্পূর্ণ পক্ষে। এর ব্যবহারিক প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শেই রেল হকারেরা তাদের স্টল ছোট করেছে। রেলের যেকোনও ধরনের উন্নয়নের জায়গায় রেল হকারদের স্টল থাকলে তাও উপযুক্ত বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে রেল ব্রিজ, ঠান্ডা জলের মেশিন, জলের কল, যাত্রীদের বসার জায়গা ইত্যাদি বহুবিধ উন্নয়নের জন্য রেল হকারেরা আত্মত্যাগ করেছে। এখনো তারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। কিন্তু কখনোই রেল হকারদের উপযুক্ত পুনর্বাসন ব্যতীত নয়। 
৮.অমৃত ভারত স্টেশন: রাজ্যে ১০৯টি এই ধরনের স্টেশন হবে। বিমানবন্দরের ধাঁচে। ঝাঁ চকচকে স্টেশনের উন্নয়নের পিছনেও স্থানীয় বেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রেল হকারেরা অবদান রেখেছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ রেল হকার মুক্ত স্টেশন চাইছে। উন্নয়ন হোক, কিন্তু কখনো তা গরিব রেল হকারদের রুটি রুজির বিনিময়ে নয়। উপযুক্ত বিকল্পের সন্ধানে রেল কর্তৃপক্ষকে অগ্রসর হতেই হবে।
৯. যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য রেলযাত্রীরা রেল হকারদের জন্য প্লাটফর্মে হাঁটতে পারেন না। এটা সব স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য নয় । তবে কিছু রেলস্টেশন আছে যেখানে সমস্যা আছে। আলোচনার মাধ্যমেই তা মেটানো সম্ভব। কিন্তু আদৌ কি রেল কর্তৃপক্ষ সেই বিষয়ে আগ্রহী? তাই যদি হবে তাহলে রাতের অন্ধকারে শিয়ালদা, শিয়ালদা সাউথ, মেমারিতে কাপুরুষের মতন রেল পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ল কেন? শেওড়াফুলি, শ্রীরামপুর, ব্যান্ডেল ইত্যাদি স্টেশনে নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে রেল হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে মুখে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলে এলাকা ফাঁকা করে সেখানে মোটা লাভের স্বার্থে বাণিজ্যিক স্টল বসিয়ে পুঁজি হাঙরদের সন্তুষ্ট করতে চাইছে। 
রেল হকারদের  বড় অংশ গরিবস্য গরিব। এদের রুটি রুজি রক্ষা করতে হবে। রেল হকার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ঘোষণা করেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দিকে এগতে হবে।  বাস্তবতার নিরিখে রেল কর্তৃপক্ষকে নমনীয় হতে হবে। দোকান যদি সংস্কার করতে হয়, একই রকমের করতে হয়, একই পোশাক পড়তে হয়,সৌন্দর্যকরণে, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায়,স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়,  তা হলে রেল হকারেরা তাদের ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের কম সুদে বা বিনা সুদে ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই প্রশ্নে রাজ্য সরকারও ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। 
চা বিক্রেতা প্রধানমন্ত্রীর চা বিক্রেতারা আজ রেল স্টেশনে আক্রান্ত। ঝালমুড়ি প্রেমিক প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি ওয়ালাদের উপর রেল পুলিশের আক্রমণ হয়েছে সর্বাগ্রে। রাজ্যের সদ্য মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সম্মুখে থাকার কথা বলেছিলেন।  সেই ভূমিকার ধারাবাহিকতা আমরা চাইছি। অনেক বেশি দায়িত্বশীল পদে থেকে সেই ভূমিকা তিনি পালন করলে রেল হকারদের উপর আক্রমণ বন্ধ হয়। সরকার চাইলে রেল হকার উচ্ছেদ হয়, সদিচ্ছা থাকলে তা বন্ধ হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার থাকাকালীন সেই ভূমিকা তারা পালন করেছিল বলে রেল হকারদের গায়ে আঁচড় লাগেনি। তৃণমূল সরকারও কর্পোরেটের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। রাজ্যে সরকারের পট পরিবর্তন হওয়ার পর এই সরকারের সামনে সুযোগ এসেছে, গরিব হকারদের পাশে দাঁড়ানোর। বিধানসভায় সর্বদলীয় প্রস্তাব গ্রহণ করা হোক বেপরোয়া রেল হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে, উপযুক্ত পুনর্বাসনের পক্ষে। তা পাঠানো হোক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রেল বোর্ডকে। কড়া বার্তা দেওয়া হোক রাজ্যের রেল কর্তৃপক্ষকে। ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হোক রেল হকার সমস্যার বিষয়ে। রেল কর্তৃপক্ষ, রেল হকার সংগঠনগুলির প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজ্য সরকার। বিকল্পের সন্ধান আসুক সেখানে। মতৈক্যের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও জীবিকা রক্ষার সামঞ্জস্যের সমাধান সূত্র আসুক। সময়ভিত্তিক তা কার্যকরী হোক।
রেল হকারেরা তাদের কাজ করছে। পেটে তাদের লাথি পড়েছে। ইতিমধ্যে এক সঙ্গী তাদের বলি হয়েছে। কে কবে কোন ঝান্ডা ধরেছে, এখন তারা তা মনে করতে চাইছে না।  কিন্তু তাদের মন পড়ে আছে নিজেদের পেট চালানোর জায়গাটায়। ওটাকে রক্ষা করতে হবে। ট্রেনে ট্রেনে জিনিস ফেরি করা রানিং হকার জানে আজ যদি প্ল্যাটফর্মের হকার তুলে দিতে সক্ষম হয়, কালকে তার পালা। সবাই এক হচ্ছে। বিধাননগর, দমদম, কল্যাণী, জগদ্দল, মধ্যমগ্রাম, মথুরাপুর,আক্রা, সোনারপুর, বারুইপুর ... একের পর এক প্রতিরোধের দেওয়াল উঠছে। আরপিএফ তাড়া করলে রেল হকারেরা পালটা তাড়া করছে। এ পর্বে এ দৃশ্য নতুন। দূর দূরান্তের রেল হকারেরা খবর পেয়েই যে স্টেশনে উচ্ছেদের নোটিস এসেছে সেখানে হাজির হচ্ছে। হতেই হবে। পাশের বাড়িতে আগুন লেগেছে। না নেভালে কাল আমার বাড়ি স্পর্শ করবে। এই অনুভূতি এই আন্দোলনের রসদ। রেল হকারেরা আজ একা নয়। অন্য শ্রমিকেরা যুক্ত হচ্ছে। সংহতির হাত প্রসারিত হচ্ছে রেলযাত্রীদের পক্ষ থেকে। যুক্ত হচ্ছে আইনের লড়াই। হাওড়ায় রেল কর্তৃপক্ষের হাত পুড়েছে। এ লড়াই লড়তে হবে। অসম  লড়াই জিততে হবে। এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি,নিতে হবে তরী পার।

পাশের বাড়িতে আগুন লেগেছে। না নেভালে কাল আমার বাড়ি স্পর্শ করবে। এই অনুভূতি এই আন্দোলনের রসদ। রেল হকারেরা একা নয়। অন্য শ্রমিকেরা যুক্ত হচ্ছে। সংহতির হাত প্রসারিত হচ্ছে রেলযাত্রীদেরও। হচ্ছে আইনের লড়াই। হাওড়ায় রেল কর্তৃপক্ষের হাত পুড়েছে। এ লড়াই লড়তে হবে। অসম  লড়াই জিততে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment