INDIA public impeachment

চলছে বিরোধীদের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’, রয়েছেন বেবি, বৃন্দা কারাত

জাতীয়

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে শুরু বিরোধীদের ‘মক পার্লামেন্ট’। সভায় অধ্যক্ষর ভূমিকা পালন করছেন প্রাক্তন লোকসভার অধ্যক্ষ মীরা কুমার। বিরোধীদের এই পাবলিক ইমপিচমেন্টে বিরোধী সাংসদরা যেমন রয়েছেন, তেমন রয়েছেন বিরোধী দলগুলোর নেতা এবং অন্যান্য সংঠগন গুলোর প্রতিনিধি। সিপিআই(এম) এর লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদের পাশাপাশি রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, প্রবীন নেত্রী বেন্দা কারাত।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব পেশ করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, ‘শাসক দল বলে বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারিদের ভোটার তালিকায় রাখতে চায়। আমরা বলতে চাই আমরা দেশের প্রকৃত ভোটারদের তালিকায় রাখতে চাই।’
উল্লেখ্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। বার বার দিল্লিতে পথে নেমেছেন পড়ুয়ারা। ইন্ডিয়া মঞ্চের নেতারা পথে নেমেছেন গ্রেপ্তার হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে বার বার দমন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট ধর্ণা, প্রতিবাদ কর্মসূচির স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যন্তর মন্তরে দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাদের।
খাড়গে প্রস্তাব পাঠ করার সময় বলেন, জ্ঞানেশ কুমার নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের কথা অনুযায়ী কমিশন পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন তাদের দাবি কমিশন সংবিধান মেনে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের কাজ করুক। 
মীরা কুমার সভা শুরু আগে জানান যে এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের মধ্যে থেকেও প্রতিনিধি সভায় রয়েছেন। তারাও তাদের মতামত প্রকাশ করবেন। 
২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর পরবর্তীতে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে এবং খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআর এবং ভোটার-তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়। সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলি মানেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআইআর-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ কোনও একজন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিযোগকে কমিশন অস্বীকার করেছে। তবে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি এবং তার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েচিল তাকে অস্বীকারও করতে পারেনি।
এসআইআর নিয়ে আইনি বিতর্কও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট বিহারের এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার ভিত্তিতে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করা যায় না।
বিরোধী দলগুলির দাবি, নাম বাদ পড়েছে এমন প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত এবং ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment