লোকের অভাব, প্রয়োজনে বাইরের রাজ্য থেকে বিচারকদের জুডিশিয়াল অ্যাডভাইজার হিসাবে নিয়োগ করে শেষ করতে হবে এসআইআরের কাজ। মঙ্গলবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। সেখানে তিনি জানান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় এসআইআরের কাজ শেষ করতে সময় লাগবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, প্রায় ৮০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি এবং আনম্যাপড তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় অফিসারকে প্রায় ৫০ লক্ষ দাবি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিন প্রধান বিচারপতি জানান, নথি যাচাইয়ের এই কাজে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন বছর বা তার বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ পদমর্যাদার অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তিনি ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেছেন এই বিষয় কলকাতা হাইকোর্টকে সহায়তা করার জন্য।
বাইরের রাজ্য থেকে বিচারক নিয়োগ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি। তিনি বলেন, বাইরের রাজ্য থেকে বিচারক আনা হলে সেই একই সমস্যা থাকবে। পাল্টা সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেন, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ডের মতো রাজ্য গুলোর পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্ক তাদের একটা ধারনা হবে।
শেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে জুডিশিয়াল অ্যাডভাইজারের তত্ত্বাবধানে এসআইআরের কাজ শেষ করতে হবে।
শনিবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে সু্প্রিম কোর্ট বলে যাতে প্রতিটি জেলায় এমন অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার কাজে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারপতি অথবা অতিরিক্ত জেলা বিচারপতিদের দায়িত্ব দেওয়া যায়। তারপর রাজ্য সরকারের সাথে দফায় দফায় হয় বৈঠক।
এসআইআরের কাজকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং কমিশনের প্রধান সংঘাত আধিকারিকদের নিয়ে। কমিশনের দাবি রাজ্য সরকার তাদের পর্যাপ্ত গ্রুপ বি আধিকারিক দেয়নি। দেওয়া হয়েছে গ্রুপ সি বা আরও নিম্নপদস্থ আধিকারিক। এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তারা আধিকারিক চাইলেও রাজ্য সরকার তাদের সেই আধিকারিক দেয়নি। উল্টে সরকার বলেছে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছে যেই সব গ্রুপ বি আধিকারিকদের পাঠানো হচ্ছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে সময় লাগবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যাদের নাম পাঠানো হচ্ছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে সেদিন বলা হয় ওই আধিকারিকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন প্রয়োজন সেই জন্য সময়ও প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টে সাত দিন বাড়িয়ে দেয় ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়।
Comments :0