USA Tariff

আগামীকাল থেকে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের অনৈতিক শুল্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পণ্যশুল্ক সংগ্রহ বন্ধ করার ঘোষণা করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP)। আদালতের পক্ষ থেকে এই শুল্ককে 'অবৈধ' ঘোষণা করার পর বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (IEEPA) অপব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করেছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আইন প্রেসিডেন্টকে এত ব্যাপক হারে শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেয় না।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২:০১ মিনিট থেকে এই শুল্ক বাতিল করা হবে বলে বলা হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রায়ের ফলে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব ফেরত দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অবৈধ ঘোষিত শুল্ক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় হতো।
জানা গিয়েছে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র আইইইপিএ’র অধীনে থাকা শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 'সেকশন ২৩২' (জাতীয় নিরাপত্তা) এবং 'সেকশন ৩০১' (অন্যায্য বাণিজ্য নীতি)-এর অধীনে থাকা অন্যান্য শুল্ক আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
আদালতের রায়ে পুরোনো শুল্ক বাতিল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন একটি ঘোষণা করেছে। এবার 'সেকশন ১২২' নামক একটি আইনি ধারা ব্যবহার করে সমস্ত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ঢালাও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন ইতিহাসে এই প্রথম কোন রাষ্ট্রপতি 'সেকশন ১২২' ব্যবহার করলেন। এই আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক বসানো যায়, তবে তা ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং তাইওয়ানের মতো এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর ওপর থেকে পুরোনো শুল্কের বোঝা সরে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর থেকে শুল্ক সংগ্রহ বন্ধ করতে কেন তিন দিন দেরি হলো, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোন ব্যাখ্যা দেয়নি।

Comments :0

Login to leave a comment